বৈঠকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত ‘বেতন ও চাকরি কমিশন, ২০২৬’ এবং এ-সংক্রান্ত সচিব কমিটির সুপারিশের আলোকে নতুন বেতন স্কেল ও ভাতাদি নির্ধারণের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। পরে সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাবটি অনুমোদন করা হয়।
অনুমোদিত নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী, গ্রেড-১-এর মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। আর ২০তম গ্রেডে মূল বেতন হবে ২০ হাজার টাকা।
নতুন পে-স্কেলে সর্বনিম্ন ১০০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। নতুন মূল বেতন ১ জুলাই থেকে কার্যকর হলেও তা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। এ ছাড়া নবম পে-স্কেলে প্রথমবারের মতো ‘প্রতিবন্ধী সন্তান’ ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ভাতার আওতায় মাসে ৩ হাজার টাকা দেওয়ার কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হবে। প্রজ্ঞাপন জারি করতে এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
এর আগে সোমবার সকালে নতুন পে-স্কেল নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান এবং সরকারের ওপর সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাবসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং অর্থসচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সর্বশেষ জাতীয় বেতন কাঠামো চালু হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর প্রতিবছর মূল বেতন ৫ শতাংশ হারে বাড়ানো হলেও নতুন কোনো জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়নি। ফলে প্রায় ১১ বছর ধরে ২০১৫ সালের বেতন কাঠামোর ভিত্তিতেই সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা নির্ধারিত হয়ে আসছে।
এ অবস্থায় নবম জাতীয় পে-স্কেলের অপেক্ষায় ছিলেন প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী। নতুন কাঠামোর আওতায় সুবিধা পাওয়ার প্রত্যাশায় রয়েছেন প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগী। একই সঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের অপেক্ষায় রয়েছেন।
মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর এখন প্রয়োজনীয় আইনি যাচাই ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু হবে। গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়ে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক পথ আরও স্পষ্ট হবে।