শিরোনাম
নেপাল-তিব্বতে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধস, নিহত ৭৫০ ছাড়াল; নিখোঁজ ৩ হাজারের বেশি মাইডাস ফাইন্যান্সিংয়ের ৩ বাণিজ্যিক সম্পদ বিক্রির সিদ্ধান্ত পূবালী ব্যাংকের ‘ক্রেডিট কার্ড ও অন্যান্য ব্যাংকিং পণ্য বিক্রয় ক্যাম্পেইন’ এর উদ্বোধন পূবালী ব্যাংকের চট্টগ্রাম দক্ষিণ অঞ্চলের ৩য় ব্যবস্থাপক সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত পদ্মা ইসলামী লাইফের জীবন বীমা তহবিলের ঘাটতি বেড়ে ৩২৭ কোটি টাকা ঢাকার বাতাস আজ ‘সহনীয়’ ওয়ালটনের ১৮০% নগদ, ১০% স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা ঢাকার যানজট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, আসছে অটোরিকশা চলাচলে নীতিমালা বিশ্ববাজারে লাগাতার কমছে তেলের দাম হরমুজ প্রণালি খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে যে শর্ত দিল ইরান

নেপাল-তিব্বতে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধস, নিহত ৭৫০ ছাড়াল; নিখোঁজ ৩ হাজারের বেশি

  • Update Time : Sunday, August 30, 2026

নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৩ হাজারের বেশি মানুষ। নতুন করে বৃষ্টি ও নদীর পানি বাড়ায় একাধিক এলাকায় উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে আটকে পড়া শত শত মানুষকে উদ্ধারে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন উদ্ধারকারীরা।

রোববার (৩০ আগস্ট) নেপালি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় শুক্রবার থেকে কয়েক দফা উদ্ধার অভিযান স্থগিত করতে হয়েছে। হিমবাহ ধসের পর নেপাল-চীন সীমান্তের উজানে তৈরি হওয়া একটি হ্রদ থেকে পানি নদীতে নেমে আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৭৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৪৯৮ জন। এ ছাড়া ৭ হাজার ৫১৪ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, চীনের তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সেখানে নিখোঁজ রয়েছেন ৫৪৬ জন। নিখোঁজদের মধ্যে ২৩টি দেশের ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তাদের মধ্যে নেপালের ১০৪ জন, ভারতের ৪৯ জন, লাটভিয়ার ৩৩ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ জন এবং যুক্তরাজ্যের ১৫ জন রয়েছেন।

রেড ক্রসের হিসাবে, এই দুর্যোগে ৯০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারেন। চীন জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সঙ্গেও এই বিপর্যয়ের সম্পর্ক রয়েছে।

এদিকে ভয়াবহ এই দুর্যোগ নিয়ে চীন ও নেপালের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার হয়েছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, ওয়াং ই এটিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে দুই দেশের সবচেয়ে ভয়াবহ আন্তঃসীমান্ত দুর্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপালকে সহায়তা করতে ভারত ও চীনের বিশেষজ্ঞ দলও কাজ করছে। বিশেষ করে টানেলে আটকে পড়াদের উদ্ধারে বিশেষায়িত সরঞ্জাম ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

নেপালের উদ্ধার অভিযানের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলগুলো। হিমবাহ, পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল স্রোত নেমে আসার পর এসব টানেলে শত শত মানুষ আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। টানেলের প্রবেশপথ শনাক্ত করে আটকে পড়াদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।

নেপাল জানিয়েছে, সাধারণ উদ্ধারকাজে বিদেশি সহায়তার প্রয়োজন না হলেও টানেল থেকে উদ্ধার, দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষা, মরদেহ সংরক্ষণ এবং পচনশীল মরদেহের ফরেনসিক শনাক্তকরণের মতো বিশেষায়িত কাজে আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন।

এরই মধ্যে উজানে তৈরি হওয়া হ্রদটির বেশির ভাগ পানি নেমে গেলেও নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। শনিবার রাতে ড্রোনে হ্রদটির প্রায় ২ দশমিক ৮ কিলোমিটার ভাটিতে আরেকটি ভূমিধস শনাক্ত করা হয়। এতে নতুন একটি প্রাকৃতিক বাঁধ ও পানির আধার তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় গিরং সীমান্ত ক্রসিংয়ের কাছে থাকা উদ্ধারকর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এই বিপর্যয়ের মধ্যেও আশার খবর এসেছে রাসুয়া অঞ্চল থেকে। বন্যার পর জঙ্গলের মধ্যে একা অবস্থায় আট বছর বয়সী এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্গম পার্বত্য ভূখণ্ড, আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস এবং নতুন করে পানি বাড়ার আশঙ্কা একসঙ্গে কাজ করায় উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে নিখোঁজদের সন্ধান এবং টানেলে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে পরবর্তী কয়েক দিনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026 pujibazarpratidin
Site Customized By NewsTech.Com