আগামী তিন দিন দেশের চার বিভাগে মাঝারি-ভারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসের মধ্যে উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বাড়ছে। আগামী তিন দিনও এসব নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। তবে বর্তমানে দেশের সব প্রধান নদ-নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহানের দেওয়া বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর পরিস্থিতি এবং পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর উড়িষ্যা উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এটি গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা উপকূল এবং উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে। এটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।
আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী তিন দিন দেশের অভ্যন্তরে সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন উজানে মাঝারি-ভারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সমতল বেড়েছে। আগামী তিন দিনও এসব নদীর পানি বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি সমতল বেড়েছে। আগামী তিন দিন এসব নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এরপর পরবর্তী দুই দিন পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে।
অন্যদিকে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানিও গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে। আগামী পাঁচ দিন এসব নদীর পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মাসহ এসব নদ-নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে। আগামী এক দিনও এসব নদীর পানি কমতে পারে। তবে পরবর্তী দুই দিন আবার পানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে দেশের সব প্রধান নদ-নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।