প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং ষাটের দশকের ছাত্রনেতা অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহকে জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। জাতীয় অধ্যাপক নীতিমালা-২০২৩ অনুযায়ী তাকে পাঁচ বছরের জন্য এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচিত হবেন না। তিনি নিজের পছন্দের বিষয়ে কোনো গবেষণা সংস্থা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থেকে গবেষণা পরিচালনা করবেন এবং গবেষণার ক্ষেত্র সম্পর্কে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)-কে অবহিত করবেন।
এ ছাড়া তিনি যে গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন, সেখানে প্রতি বছর শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ইউজিসির চেয়ারম্যানকে এ বিষয়ে অবহিত করবে এবং গবেষণালব্ধ ফল শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসিতে পাঠাবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫-এর গ্রেড-১ অনুযায়ী বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন। তবে এ সময়ে তিনি অন্য কোনো বেতনভুক্ত চাকরিতে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা এ প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব নাঈমা খন্দকার।
অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ ষাটের দশকের অন্যতম ছাত্রনেতা এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম প্রো-ভিসি (উপ-উপাচার্য) ছিলেন। তিনি বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভারতের জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা সম্পন্ন করেন।
অর্থনীতিতে পিএইচডিধারী এই শিক্ষাবিদ ১৯৭৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন।
এ ছাড়া তিনি কানাডার ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ সেন্টার, নেপালের ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ এবং ডেনমার্কের সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট রিসার্চসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।