বিদেশি শিক্ষার্থী আকর্ষণে জাতীয় নীতিমালা করতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী

  • Update Time : Thursday, July 23, 2026

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরি করা নয়, তাদের মেধার উৎকর্ষ নিশ্চিত করা। বিদেশি শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক উচ্চশিক্ষার গন্তব্যে পরিণত করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এ জন্য বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি, একাডেমিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিকীকরণে একটি সমন্বিত জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) ইউজিসি চেয়ারম্যানের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় দেশের উচ্চশিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে পাঁচ বছর মেয়াদি ‘উচ্চশিক্ষা রূপান্তর : টেকসই উৎকর্ষ অর্জনে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (২০২৬–২০৩০)’–এর খসড়া নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মতবিনিময় করেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক ও সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইউজিসির নেতৃত্ব আরও কার্যকর ও গতিশীল হতে হবে। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সফল উচ্চশিক্ষা সংস্কারের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের বিপুল জনসংখ্যা একটি সম্ভাবনাময় সম্পদ। পরিকল্পিত উচ্চশিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণা এবং উদ্ভাবনে বিনিয়োগের মাধ্যমে এ জনসম্পদকে জাতীয় উন্নয়নের কার্যকর শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। চীন, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের সফল উচ্চশিক্ষা সংস্কারের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের জন্য উপযোগী দিকগুলো বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিতে হবে।

সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের উচ্চশিক্ষাকে এগিয়ে নিতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চশিক্ষা রূপান্তরবিষয়ক জাতীয় কর্মশালার সুপারিশ, সরকারের অগ্রাধিকার এবং ইউজিসির কৌশলগত পরিকল্পনার সমন্বয়ে পাঁচ বছর মেয়াদি এ কর্মপরিকল্পনার খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে আউটকাম-বেইজড এডুকেশন (ওবিই), ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার, ইন্টার্নশিপ ও কর্মসংস্থান পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলএমএস), ডিজিটাল প্রশাসন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে গবেষণা প্রকাশনা ও পেটেন্টের সংখ্যা দ্বিগুণ করা, আন্তর্জাতিক গবেষণা ও একাডেমিক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণ, সমন্বিত জাতীয় উচ্চশিক্ষা তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশকে আঞ্চলিক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্যও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সভায় ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম, অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, ইউজিসি সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলামসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026 pujibazarpratidin
Site Customized By NewsTech.Com