দেশের পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে ১১ দফা প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ।
রোববার (২৬ জুলাই) বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খানের কাছে এসব প্রস্তাব তুলে দেন সংগঠনটির সভাপতি কাজী মোহাম্মদ নজরুল।
প্রস্তাবে বলা হয়, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও নীতিগত দুর্বলতার কারণে দেশের পুঁজিবাজার সংকটে পড়েছে। তবে বর্তমান কমিশনের উদ্যোগে বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব বলে আশা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—সব ধরনের শেয়ারের জন্য সমান মার্জিন ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করা, আগামী তিন মাসের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া এবং প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ৮০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ করা।
এ ছাড়া আইপিওতে সর্বোচ্চ আবেদনসীমা ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং লটারির মাধ্যমে বরাদ্দ ব্যবস্থা পুনর্বহালের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবে বলা হয়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ‘রেড জোনে’ থাকা কোম্পানিগুলোকে তালিকাচ্যুত করার আগে পুনর্গঠনের জন্য অন্তত দুই বছর সময় দিতে হবে। এরপরও তালিকাচ্যুতির প্রয়োজন হলে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বাজারদর বা ইস্যু মূল্যের মধ্যে যেটি বেশি, সেই দামে কিনে নেওয়ার (বাইব্যাক) ব্যবস্থা করতে হবে।
সংগঠনটি জানিয়েছে, দেশের পুঁজিবাজারে প্রায় ৮০ শতাংশ বিনিয়োগ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। তাই বাজারসংক্রান্ত নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে তাদের প্রতিনিধিদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এ জন্য বছরে অন্তত চারবার বিনিয়োগকারী প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় সভার আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া কারসাজি ও অস্বাভাবিক লেনদেন শনাক্তে রিয়েল-টাইম মনিটরিং ব্যবস্থা চালু, বাজারে তারল্য বাড়াতে ৩ শতাংশ সুদে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন এবং ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) মাধ্যমে ব্রোকারেজ হাউসের সহযোগিতায় ৫ শতাংশ সুদে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ঋণ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ আরও প্রস্তাব করেছে, মিউচুয়াল ফান্ডের অন্তত ৮০ শতাংশ অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাধ্যতামূলক করা, মেয়াদি (ক্লোজড-এন্ড) ফান্ডকে ওপেন-এন্ড ফান্ডে রূপান্তর, ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্ট-২০১৫ কার্যকর বাস্তবায়ন, তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য শেয়ার বাইব্যাক আইন প্রণয়ন, বর্তমান এ, বি, এন ও জেড ক্যাটাগরির পরিবর্তে নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু এবং আন্তর্জাতিক মানের আর্থিক পরামর্শক সনদ চালু করা।
সংগঠনটির দাবি, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে একটি স্বচ্ছ, স্থিতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব পুঁজিবাজার গড়ে উঠবে এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।