শিরোনাম
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অ‌ভিমুখে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম হেলিকপ্টারে হামলার জবাব ‘খুবই শক্তিশালী’ হওয়া উচিত: ট্রাম্প মাসুদ খান যুক্তরাষ্ট্রে, বিএসইসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তানভীর হাবিব লোকসান আড়াল করে আল-আরাফাহ ব্যাংকের ভুয়া মুনাফা সিআরআর ঘাটতিতে ১০ হাজার কোটি টাকার ঋণ সহায়তা চায় ইসলামী ব্যাংক পলাশে পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস ক্যাম্পেইন শুরু ইসলামী ব্যাংক ও বেক্সিমকোর ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারে বিএসইসির নতুন কমিশনকে ডিবিএ’র ধন্যবাদ ইরান-ইসরায়েল পাল্টাপাল্টি হামলায় বিশ্ব বাজারে আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম সূচকের পতনে চলছে লেনদেন ইরানের পেট্রোক্যামিকেল স্থাপনায় ইসরায়েলের হামলা

সিআরআর ঘাটতিতে ১০ হাজার কোটি টাকার ঋণ সহায়তা চায় ইসলামী ব্যাংক

  • Update Time : Tuesday, June 9, 2026

নগদ সংরক্ষণ অনুপাত (সিআরআর) বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে দেশের বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাংকগুলোর অন্যতম ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। ব্যাংকটির চলতি হিসাবে অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সাম্প্রতিক সময়ে গ্রাহকদের বড় অঙ্কের আমানত উত্তোলনের কারণে ব্যাংকটির তারল্য চাপে পড়েছে। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষিত নগদ অর্থের নির্ধারিত সীমা বা সিআরআর বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আমাদের প্রিন্সিপাল অ্যাকাউন্ট এখনও ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। তবে সিআরআর ঘাটতি তৈরি হয়েছে। প্রিন্সিপাল অ্যাকাউন্টে সিআরআর রক্ষার জন্য নির্দিষ্ট সীমা থাকে। বর্তমানে সেই সীমার নিচে নেমে যাওয়ায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে।”

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকে ইসলামী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অ্যাকাউন্টে আগে প্রায় ৭ হাজার ১৫ কোটি টাকা জমা ছিল। বর্তমানে তা কমে প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্প্রতি ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পদে পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অস্থিরতার কারণে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার আমানত ব্যাংক থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এস আলম গ্রুপের নামে-বেনামে বিপুল ঋণ বিতরণের কারণে ইসলামী ব্যাংক তারল্য সংকটে পড়ে। সে সময় ব্যাংকটি সিআরআর ঘাটতিতে পড়ে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের চলতি হিসাবে প্রয়োজনীয় অর্থ সংরক্ষণেও ব্যর্থ হয়।

তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ব্যাংকটি ধীরে ধীরে সংকট কাটিয়ে উঠতে শুরু করে। কয়েক মাসের মধ্যে সিআরআর ঘাটতি থেকে বেরিয়ে আসে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চলতি হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ জমা রাখতে সক্ষম হয়।

কিন্তু নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর আবারও ব্যাংকটিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। গত ২৪ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। একই দিন রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এরপর থেকেই তার নিয়োগের বিরোধিতা করে একদল গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডার বিভিন্ন ব্যানারে কর্মসূচি পালন করে আসছেন। মঙ্গলবার টানা নবম দিনের মতো রাজধানীর ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, চলমান অস্থিরতা দ্রুত নিরসন করা না গেলে ইসলামী ব্যাংকের ওপর আমানতকারীদের আস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026 pujibazarpratidin
Site Customized By NewsTech.Com