সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভুয়া আইডি খুলে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে এক মেরিন ইঞ্জিনিয়ারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গ্রেপ্তারকৃতের নাম আল আসিফ মাহমুদ প্রিন্স।
বৃহস্পতিবার সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, গতকাল বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানাধীন সাভার ডিওএইচএস এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)-এর সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ইউনিটের একটি দল।
সিআইডি সূত্রে জানা যায়, আশুলিয়া থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ভুক্তভোগীর দায়ের করা মামলায় তদন্ত করতে গিয়ে আসিফ মাহমুদ প্রিন্সকে সনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, ভুয়া ফেসবুক আইডির মাধ্যমে কৌশলে ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত ছবি সংগ্রহ করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করত এই চক্র। মান-সম্মান নষ্ট করার ভয় দেখিয়ে ধাপে ধাপে অর্থ আদায় করা হতো।
২০২৫ সালের মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে একটি ভুয়া আইডি থেকে ভুক্তভোগীকে তার ও তার স্বামীর ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে মোট ২৪ হাজার টাকা আদায় করা হয়।
সিআইডি জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের কাজে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ও দুটি সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসিফ মাহমুদ প্রিন্স অভিযোগ স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সিআইডি। তিনি ভুয়া আইডির মাধ্যমে ব্যক্তিগত ছবি সংগ্রহ করে সেগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের কথা স্বীকার করেছেন।
এ ঘটনায় জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্তে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম বর্তমানে সাইবার পুলিশ সেন্টার পরিচালনা করছে এবং চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ধরনের প্রতারণা সম্পর্কে সর্বসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সিআইডি। পাশাপাশি কোনো ধরনের ব্যক্তিগত বা সংবেদনশীল ছবি-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংরক্ষণ বা শেয়ার না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।