মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান যুদ্ধের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের নিত্যপণ্যের বাজারে। বিশেষ করে বড় প্রভাব দেখা গেছে ভোজ্যতেল ও সবজির দামে। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে খোলা ভোজ্যতেলের লিটারে সাত থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে বেশির ভাগ সবজির কেজিতেও অন্তত ১০ টাকা বেড়েছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারি পর্যায়ে হঠাৎ করে প্রতি ড্রামে এক হাজার টাকা বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ভোক্তা পর্যায়ে। আর পাইকারি ও আমদানিকারকরা বলছেন, জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় পরিবহন ভাড়া বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে বাজারে।
ঈদুল ফিতরের আগে থেকেই ভোজ্যতেলের দাম একটু একটু করে বাড়ছিল। তবে ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বেশ অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলের বাজারে। যদিও বাংলাদেশে সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি। তবে সরবরাহ সংকটের অজুহাতে পরিবহন মালিকরা ভাড়া বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এরে আঁচ লেগেছে নিত্যপণ্যের বাজারে।
গতকাল রাজধানীর আগারগাঁও, কারওয়ান বাজার ও মহাখালী কাঁচাবাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হঠাৎ করে খোলা সয়াবিন ও পামঅয়েলের দাম বেড়েছে। খুচরা পর্যায়ে দুই দিন আগেও খোলা সয়াবিনের লিটার ছিল ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা। গতকাল বিক্রি হয়েছে ১৯০ থেকে ১৯২ টাকা দরে। একইভাবে দুই দিন আগের ১৭৫ টাকার পামঅয়েলের লিটার গতকাল বিক্রি হয়েছে ১৮৪ থেকে ১৮৫ টাকা দরে। অর্থাৎ মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে লিটারে দর বেড়েছে যথাক্রমে সাত থেকে ১০ ও ৯ থেকে ১০ টাকা। তবে সরকার নির্ধারিত দরের চেয়ে দাম আরও বেশি বেড়েছে। সর্বশেষ গত ডিসেম্বর সরকার প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন ১৭৬ ও পামঅয়েল ১৬৬ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। সেই হিসাবে বাজারে সয়াবিনের লিটার ১৪ থেকে ১৬ এবং পামঅয়েলের লিটার ১৮ থেকে ১৯ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু বোতলের গায়ে দাম লেখা থাকায় এর চেয়ে বেশি দরে বিক্রি করার সুযোগ পাচ্ছেন না বিক্রেতারা। তবে কোথাও কোথাও সংকট দেখিয়ে বোতলের দামও বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে ক্রেতাদের।
দাম বাড়ার ব্যাপারে তেজকুনিপাড়ার সুমা জেনারেল স্টোরের বিক্রয়কর্মী মো. শুভ বলেন, ডিলার পর্যায়ে তিন-চার দিন আগে প্রতি ড্রাম (২০২৪ লিটার) সয়াবিনের দর ছিল ৩৭ হাজার টাকা। এখন কিনতে হচ্ছে ৩৭ হাজার ৮০০ টাকায়। একইভাবে প্রতি ড্রাম পামঅয়েলের দর ৩২ হাজার থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৩ হাজার টাকা।
হঠাৎ করে দাম বাড়ছে কেন জানতে চাইলে বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মাওলা বলেন, কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। সে কারণে মিলগেটে দর বেড়েছে। এ ছাড়া জ্বালানি তেলের সংকটে পরিবহন ভাড়া বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে তেলের দামে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আমদানিকারক একটি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা জানান, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লেও দেশে সমন্বয় করা হয়নি। এর ওপর যুদ্ধের কারণে আমদানিতে সমস্যা হচ্ছে। জ্বালানি তেলের সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পরিবহন খরচও বেড়েছে ট্রাকপ্রতি এক হাজার টাকার মতো। বাজারে এর প্রভাব পড়তে পারে।
ভোজ্যতেলের পাশাপাশি বাজারে সবজির দরও বেড়েছে। গত সপ্তাহের তুলনায় বেশির ভাগ সবজির কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। কোনোটির দাম ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গতকাল প্রতি কেজি পটোল ৮০ থেকে ৮৫, ঢ্যাঁড়শ ৭০ থেকে ৭৫, উচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ এবং বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। শিমের কেজি বিক্রি হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে।
সবজি ব্যবসায়ীরা জানান, ডিজেলের স্বল্পতার কারণে ট্রাকের ভাড়া আগের তুলনায় এক-দেড় হাজার টাকা বেড়েছে। এ কারণে সবজির দর বাড়তি। তবে মৌসুম শেষ হওয়ায় শিমের দাম বাড়ছে বলে জানান তারা।
ভোজ্যতেল ও সবজির দাম বাড়লেও দাম কমেছে মুরগি ও ডিমের। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লারের কেজিতে ৩০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ৮৫ টাকা। আর সোনালি জাতের মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৩৭০ টাকা। এ ছাড়া ডিমের ডজন কেনা যাচ্ছে কমবেশি ১১০ টাকা দরে।