শিরোনাম
বিশ্ববাজারে লাগাতার কমছে তেলের দাম হরমুজ প্রণালি খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে যে শর্ত দিল ইরান বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের অংশগ্রহণমূলক চুক্তি স্বাক্ষর ক্রিকেটের উন্নয়নে ওয়ালটনের অব্যাহত সহযোগিতা প্রত্যাশা বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন বেড়েছে ঋণ জালিয়াতি ও সম্পদ অপব্যবহার ঠেকাতে ১০ হাজার মামলা করেছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক দরবৃদ্ধির শীর্ষে ফাইন ফুডস সিটি ব্যাংক পারপেচুয়াল বন্ডের অর্ধবার্ষিকের কুপন রেট ঘোষণা পরিচালনা পর্ষদের তালিকা প্রকাশ করলো নাভানা ফার্মা ভূমিকম্পের ৩ মিনিট পরই নেপালে আকস্মিক বন্যা-ভূমিধস, নিহত বেড়ে ১৫৭

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘হৃদয়ে সাহিত্য’-এর প্রথম বার্ষিক সাহিত্য উৎসব অনুষ্ঠিত

  • Update Time : Sunday, August 9, 2026

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের চর্চা, সৃজনশীলতা, পাঠাভ্যাস ও নবীন লেখক তৈরির পাশাপাশি সাহিত্যকে বৃহত্তর পাঠকসমাজের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘হৃদয়ে সাহিত্য’-এর প্রথম বার্ষিক সাহিত্য উৎসব ২০২৬।

শনিবার (০৮ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার বিল্ডিংয়ে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন হলে দিনব্যাপী এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কবি, সাহিত্যিক, গবেষক, সম্পাদক, প্রকাশক, পাঠক ও সাহিত্যপ্রেমীরা অংশ নেন।

উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, ভাষাবিজ্ঞানী ও গবেষক তারিক মনজুর, এটিএন বাংলার এডিশনাল ভাইস প্রেসিডেন্ট সেলিম দৌলা খান, বিশিষ্ট সাহিত্যিক অমল সাহা, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, লেখক ও গবেষক ড. মো. নাছিম আখতার, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের অধ্যাপক সামসাদ ফেরদৌসী, কবি রমজান মাহমুদ এবং শামীম নূর মুন্নি। উৎসবের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক, অনুবাদক ও প্রাবন্ধিক আহমেদ জসিম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও লেখক ডা. সাগর খান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন, ‘কবি ও সাহিত্যিকদের বিভিন্ন কবি-সাহিত্যিকের লেখা বেশি করে পড়তে হবে। কবি তার অনুভূতি ও সমকালীন বিষয়গুলো সাহিত্যে তুলে ধরেন, যা মানুষের মননশীলতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’

তিনি নজরুল, রবীন্দ্রনাথ, আল মাহমুদসহ দেশের বরেণ্য কবি-সাহিত্যিকদের লেখা পড়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাদের সাহিত্য থেকে শিক্ষা নিয়ে তা জাতীয় জীবনে প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি ‘হৃদয়ে সাহিত্য’-এর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সবাইকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান এবং সংগঠনটির উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন।

সাধারণ মানুষের মননশীলতার মাধ্যম হওয়া উচিত সাহিত্য

বিশেষ অতিথি তারিক মনজুর সাহিত্য ও সাহিত্য সংগঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘সাহিত্য হওয়া উচিত সাধারণ মানুষের মননশীলতার বিকাশের অন্যতম মাধ্যম। কবি ও সাহিত্যিকদের কোনো নির্দিষ্ট সীমানায় আবদ্ধ থাকা উচিত নয়।’ তিনি ‘হৃদয়ে সাহিত্য’-এর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন।

অধ্যাপক সামসাদ ফেরদৌসী পাঠকের কাছে কবিতা ও সাহিত্যকর্ম পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘পত্রিকা, সাহিত্য সাময়িকী, সাহিত্য সংগঠন, সম্পাদক, প্রকাশক ও বিভিন্ন গণমাধ্যমকে সাহিত্যকে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।’

কবি রমজান মাহমুদ বলেন, লিখতে হলে প্রচুর অনুশীলন করতে হবে। লেখালেখি একটি নিরন্তর সাধনার বিষয়। পাশাপাশি সাহিত্যের বিভিন্ন প্রকরণ সম্পর্কেও জ্ঞান থাকা জরুরি।

বিশিষ্ট সাহিত্যিক অমল সাহা বলেন, ‘প্রযুক্তির যুগে প্রযুক্তি আসবেই। তবে প্রযুক্তিকে সঙ্গে নিয়েই সাহিত্যকে এগিয়ে নিতে হবে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলো প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিয়ে সাহিত্যকে এগিয়ে নিচ্ছে। বাংলাদেশে বই বিক্রির পরিমাণ এখনো আশানুরূপ নয়, তবে এটি সময়ের ব্যাপার।’ প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিয়ে বাংলাদেশেও সাহিত্যকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিশেষ অতিথি শামীম নূর মুন্নি বলেন, ‘বর্তমান সময়ে সাহিত্য অনেকটাই অবহেলিত এবং সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতাও প্রত্যাশিত মাত্রায় নেই।’ জমজমাট সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে গিয়ে সাহিত্যকে এগিয়ে নিতে দায়িত্ব নিয়ে এ ধরনের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের জন্য তিনি “হৃদয়ে ৮৮” ও এর সাহিত্যভিত্তিক সংগঠন “হৃদয়ে সাহিত্য”-কে অভিনন্দন জানান।

পাঁচ বছর মেয়াদি রোডম্যাপ উপস্থাপন

উৎসবে ‘হৃদয়ে সাহিত্য’-এর কৌশলগত রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়। এতে সংগঠনের ভিশন, মিশন, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, মূল কর্ম-কৌশল, সাংগঠনিক কাঠামো, পাঁচ বছর মেয়াদি রোডম্যাপ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. সাগর খান বলেন, ‘হৃদয়ে সাহিত্য কেবল একটি সাহিত্য সংগঠন নয়; এটি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি সাহিত্য আন্দোলন।’

তিনি বলেন, ‘মানসম্মত সাহিত্যচর্চা, নবীন লেখক তৈরি, পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা, প্রকাশনা, গবেষণা, ডকুমেন্টেশন এবং শক্তিশালী সম্পাদকীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে সাহিত্যের গুণগত মান উন্নয়নে ‘হৃদয়ে সাহিত্য’ কাজ করবে।’

দেশ-বিদেশের কবি, সাহিত্যিক, গবেষক, প্রকাশক ও সাহিত্য সংগঠনের সঙ্গে নেটওয়ার্ক তৈরি এবং প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল সাহিত্যচর্চাকে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নিশ্চিত করে সাহিত্য উৎসব, প্রশিক্ষণ, প্রকাশনা ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচির মাধ্যমে ‘হৃদয়ে সাহিত্য’-কে একটি মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই সাহিত্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আয়োজকদের ভূমিকার প্রশংসা

উৎসব আয়োজনে ‘হৃদয়ে সাহিত্য’ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক জুয়েল হাজারী, যুগ্ম আহ্বায়ক শাহনেওয়াজ কবির ইমন এবং যুগ্ম সম্পাদক সুচিত্রা মিলির ভূমিকার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন ডা. সাগর খান।

তিনি বলেন, ‘পুরো অনুষ্ঠান আয়োজন এবং স্যুভেনির প্রণয়নে তাঁরা অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন।’

সাহিত্যকে মানুষের কাছে আরও ব্যাপকভাবে পৌঁছে দিতে প্রতিবছর এ ধরনের সাহিত্য উৎসব আয়োজন, স্মরণিকা প্রকাশ এবং একটি টেকসই ও শক্তিশালী সাহিত্য সংগঠন গড়ে তোলার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

ছিল নানা আয়োজন

দিনব্যাপী উৎসবে কবিতা পাঠ, গল্প পাঠ, সাহিত্য আলোচনা, সম্মাননা প্রদান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং লেখক-পাঠক মতবিনিময়সহ বিভিন্ন সাহিত্যভিত্তিক পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজকরা জানান, ‘হৃদয়ে সাহিত্য’ ভবিষ্যতে নিয়মিত সাহিত্যসভা, পাঠচক্র, সৃজনশীল লেখালেখির কর্মশালা, সম্পাদকীয় প্রশিক্ষণ, গবেষণা, প্রকাশনা, সাহিত্য উৎসব এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাহিত্যিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে ধারাবাহিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

‘হৃদয়ে সাহিত্য’ হলো ‘হৃদয়ে ৮৮’-এর সাহিত্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম। উৎসবের সার্বিক আয়োজন করে ‘হৃদয়ে সাহিত্য’। অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার ছিল এটিএন বাংলা ও দৈনিক মানবকণ্ঠ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026 pujibazarpratidin
Site Customized By NewsTech.Com