শিরোনাম
অগ্রণী ব্যাংকে মহান স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপন মাত্র ৩ কার্যদিবসের মধ্যে জেনিথ ইসলামী লাইফের মৃত্যুদাবীর চেক হস্তান্তর সাবেক সচিব ইউনুসুর রহমান যমুনা অয়েলের নতুন চেয়ারম্যান ওয়ালটন পণ্য কিনে উপহার পেলেন আরও ২৭ ক্রেতা মঙ্গলবার থেকে পুঁজিবাজারে টানা ৭ দিনের ঈদের ছুটি শুরু ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন প্রায় ৪১ লাখ করদাতা: এনবিআর ঈদের ছুটিতে সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে ব্যাংক, লেনদেন চলবে কত ঘণ্টা? থ্যালাসেমিয়া রোগের চিকিৎসায় ১০ লাখ টাকা দিল শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক আর্থিক খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস বিশ্বব্যাংকের একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় ওয়ালটন হাই-টেককে অনাপত্তিপত্র দিয়েছে বিএসইসি

তেলের বাজারে অস্থিরতা, দাম দুই বছরের সর্বোচ্চ

  • Update Time : Saturday, March 7, 2026

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী সতর্ক করে বলেছেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস রফতানিকারক দেশগুলো আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারে।

এই আশঙ্কার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম এক লাফে ৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২৩ সালের শরতের পর সর্বোচ্চ। এর ফলে গাড়ির জ্বালানি থেকে শুরু করে ঘরের হিটিং, খাদ্যপণ্য ও আমদানিকৃত পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী সাদ আল-কাবি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় ধাক্কা দিতে পারে। যুদ্ধ যদি আরও কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হয়, তবে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। এতে বৈশ্বিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং অনেক দেশে জ্বালানি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে।

এরই মধ্যে কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি সংস্থা কাতারএনার্জি এলএনজি উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করেছে এবং সরবরাহ চুক্তিতে ‘ফোর্স মেজিউর’ ধারা কার্যকর করেছে।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্যে ইতোমধ্যে জ্বালানির দাম বাড়তে শুরু করেছে। দেশটির গাড়ি চালকদের সংগঠন আরএসি জানিয়েছে, গত শনিবারের পর পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ৩ দশমিক ৭ পেন্স এবং ডিজেলের দাম ৬ পেন্স বেড়েছে। ফলে দেশটিতে জ্বালানি তেলের দাম গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলো যদি তেল রফতানি করতে না পারে, তবে মজুতের জায়গা ফুরিয়ে গেলে কয়েক দিনের মধ্যেই উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারে।

তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের কিছু বিকল্প পাইপলাইন রয়েছে, যেগুলো ব্যবহার করে তারা হরমুজ প্রণালী ছাড়াও তেল পরিবহন করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি পরিবহন ব্যয়ের পাশাপাশি খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় আমদানিকৃত পণ্যের দামও বাড়িয়ে দিতে পারে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি আবারও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের মন্দার মুখে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 pujibazarpratidin
Site Customized By NewsTech.Com