নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশে এক পয়সার ব্যবহার মনে করতে না পারলেও এক টাকায় চারটি লজেন্স আর আট আনা বা ৫০ পয়সায় আইসক্রিম কেনার অভিজ্ঞতার কথা হয়তো অনেকেই মনে করতে পারেন। বর্তমানে ১ ও ২ টাকার ধাতব মুদ্রা (কয়েন) ব্যবহার চোখে পড়ে না বললেই চলে।
তবে এসব ধাতব মুদ্রা সচল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক ১ ও ২ টাকার ধাতব মুদ্রা (কয়েন) ব্যবহার করতে বলেছে। এসব ধাতব কয়েন ব্যবহার বৈধ এবং তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানোর ব্যাপারে সতর্ক করেছে ব্যাংক খাতের এ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড পাবলিকেশন্স থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১ ও ২ টাকার ধাতব মুদ্রা লেনদেনে কেউ কেউ অনীহা প্রকাশ করছেন। কিন্তু কাগজের নোটের পাশাপাশি প্রচলিত সব ধরনের ধাতব মুদ্রাই বৈধ।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এসব মুদ্রা নগদ লেনদেনে গ্রহণ না করা আইনবিরোধী। সর্বসাধারণকে ১ ও ২ টাকার ধাতব মুদ্রা স্বাভাবিকভাবে লেনদেনে ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
উল্লেখ্য, স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে প্রথম চারটি ধাতব মুদ্রা প্রচলন করা হয়। এগুলো হচ্ছে পাঁচ পয়সা, ১০ পয়সা, ২৫ পয়সা এবং ৫০ পয়সা। এর পরের বছর ১৯৭৪ সালে আরেকটি নতুন মুদ্রা সংযোজিত হয় যার মূল্যমান ছিল এক পয়সা। এই ধাতব মুদ্রাগুলো এখন একদিকে যেমন মানুষের সংগ্রহে কম রয়েছে, তেমনি এসবের ব্যবহারও কমেছে।
আগে এসব কয়েন দিয়ে পণ্য কেনা সম্ভব হলেও, এখন সবচেয়ে কম দামের পণ্যটি কিনতে গেলেও দাম পরিশোধ করতে যে পরিমাণ ধাতব মুদ্রা ব্যবহার করতে হবে তা ওজনে বেশ ভারী। তবে ১ টাকা ও ২ টাকা ধাতব কয়েন ব্যবহার কমে গেলেও ৫ টাকার ধাতব কয়েন সবাই ব্যবহার করেন।
১৯৭২ সালের বাংলাদেশ কয়েনেজ অ্যাক্ট অনুযায়ী, এই ধাতব মুদ্রাগুলো বাতিল বা অচল করা হয়নি এবং এগুলো এখনো চাহিদা অনুযায়ী বিনিময়ের সুযোগ রয়েছে।