শিরোনাম
ক্রেডিট কার্ডে সরাসরি কেনা যাবে বিদেশি এয়ারলাইনসের টিকিট সিগারেটে দাম বাড়িয়েও ৩ হাজার কোটি রাজস্ব ঘাটতি, কারণ খতিয়ে দেখার তাগিদ আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত ইউসিবির ‘ভিসা একসেপ্ট’: স্মার্টফোনেই কার্ডের পেমেন্ট নেবেন বিক্রেতারা বাংলা কিউআরে লেনদেনে বড় সুখবর ঢাকার আকাশ আংশিক মেঘলা, রাতে কমতে পারে তাপমাত্রা পটুয়াখালী অঞ্চলে পপুলার লাইফের ২ কোটি ৮৭ লক্ষ ৬২ হাজার টাকার বীমা দাবী পরিশোধ ১২ হাজার কোটি টাকার ডিপোজিট অর্জনের মাইলফলক উদযাপন করেছে মধুমতি ব্যাংক দখল ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা ক্ষমতাসীন দলের জন্য অশনিসংকেত: টিআইবি ডিজিটাল উদ্ভাবনে প্রজেক্ট অব দ্য ইয়ার পুরস্কার পেল ইউসিবি

দখল ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা ক্ষমতাসীন দলের জন্য অশনিসংকেত: টিআইবি

  • Update Time : Sunday, September 27, 2026

দখলবাজি ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের জন্য অশনিসংকেত বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলেছে, দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহির আওতায় আনার পাশাপাশি সারাদেশে দলের আত্মশুদ্ধি অভিযান প্রয়োজন।

নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের বরাত দিয়ে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মধ্যরাতে পুলিশের উপস্থিতিতে লুটপাট, ভাঙচুর ও জবরদখল, কিশোরগঞ্জে জলমহাল দখল নিয়ে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক আহত এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটরের কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ জানিয়েছে টিআইবি।

বুধবার এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাড্ডা এমসিএইচ-এ লুটপাট, ভাঙচুর ও জবরদখল সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের জন্য বিব্রতকর দৃষ্টান্ত। জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের একজন সদস্যের পৃষ্ঠপোষকতায় পুলিশের উপস্থিতিতে শত শত মানুষের সামনে দীর্ঘদিন ধরে গরিব ও অসহায় মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসা একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা কী ধরনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তিনি বলেন, রক্তক্ষয়ী জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী শাসনের পতনের পর ঐতিহাসিক নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা দলের নেতাকর্মীদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশবাসীর কাছে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। সাধারণ জনগণের মানসপটে বিগত সময়ের কর্তৃত্ববাদী সরকারের স্বেচ্ছাচারী আচরণ এখনো সতেজ। এমন প্রেক্ষাপটে বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশের চলমান দখলবাজি ও চাঁদাবাজির পরিণতি ভেবে দেখছেন কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের একটি অংশের বিরুদ্ধে সারাদেশে দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের ব্যাপক অভিযোগ উঠছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তৃণমূলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দলের অনেক নেতাকর্মীর বেপরোয়া আচরণ গণমাধ্যম, পর্যবেক্ষক ও রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ঢাকার সায়েদাবাদ, মহাখালী ও গাবতলীসহ চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনার প্রধান বাস টার্মিনাল, ফুটপাত, বাজার, জলমহাল, বালুমহাল, হাটবাজার, ক্যাবল সংযোগ ও ইন্টারনেট এবং বর্জ্য সংগ্রহের ব্যবসাসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়েও চাঁদাবাজি ও দখলবাজির হাতবদল ঘটেছে। এগুলোকে কেন্দ্র করে নিজেদের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও অন্তর্ঘাত অনেক ক্ষেত্রে সহিংস রূপ নিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, দৈনিক, মাসিক ও এককালীন চাঁদাবাজির এই অপতৎপরতা চলমান থাকার পাশাপাশি সরকারের একজন মন্ত্রী চাঁদাবাজিকে ‘দুর্নীতি নয়, সমঝোতার লেনদেন’ হিসেবে উল্লেখ করে একাধিকবার বক্তব্য দিলেও তাঁর অবস্থানের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এর ফলে চাঁদাবাজি ও দখলবাজি আরও স্বাভাবিকতা লাভ করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কিশোরগঞ্জের জলমহাল দখল নিয়ে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ এবং ক্রিয়েটিভ স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনা উল্লেখ করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে সংঘটিত ঘটনাবলির ধারাবাহিকতা। এসব ঘটনা সরকারের ভালো উদ্যোগ ও সদিচ্ছাকে ম্লান করে জনগণের কাছে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। সরকারি দল যদি দুর্নীতিবিরোধী নির্বাচনী অঙ্গীকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে এখনই কার্যকর আত্মশুদ্ধিমূলক পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে দখলবাজি ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ হারাতে পারে। স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীকে কঠোরভাবে দমন করতে না পারলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

বিবৃতিতে বলা হয়, দলীয় নেতা-কর্মীদের এ ধরনের অপতৎপরতায় উচ্চ পর্যায় থেকে বিব্রতবোধের পরিপ্রেক্ষিতে বহিষ্কারসহ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও কঠোর প্রতিরোধমূলক কৌশলের ঘাটতি রয়েছে। পাশাপাশি ক্ষমতার অপব্যবহারের এসব কর্মকাণ্ডে জড়িতদের সরকারি দলের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততার কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না বলে দাবি করেছে টিআইবি। এর ফলে স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি, অনিয়ম ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে সংস্থাটি। এর দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে উল্লেখ করে প্রতিটি ঘটনার যথাযথ তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে টিআইবি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026 pujibazarpratidin
Site Customized By NewsTech.Com