২০২৪ সালের নিট মুনাফা থেকে শ্রমিকদের ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ডে (ডব্লিউপিপিএফ) দেওয়ার কথা ছিল ৫২ লাখ ২৯ হাজার টাকা। কিন্তু এই অর্থ জমা দেয়নি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইস্টার্ণ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি। শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী মুনাফার ৫ শতাংশ ডব্লিউপিপিএফে দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও কোম্পানিটি তা পরিপালন করেনি।
কোম্পানিটির ২০২৪ সালের নিট মুনাফা ছিল ১০ কোটি ৪৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এর ৫ শতাংশ হিসাবে ডব্লিউপিপিএফে জমা দেওয়ার কথা ছিল ৫২ লাখ ২৯ হাজার টাকা। অর্থ জমা না দেওয়ার বিষয়টি কোম্পানির নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
শুধু শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ না করাই নয়, ২০২৫ সালের আর্থিক প্রতিবেদনে ঘোষিত নগদ লভ্যাংশ নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর না করা এবং গ্রাচুইটির বিপরীতে প্রয়োজনীয় প্রভিশন না রাখার মতো অনিয়মও চিহ্নিত করেছেন নিরীক্ষক। গ্রাচুইটির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অ্যাকচুয়ারিয়াল মূল্যায়ন না হওয়ায় কোম্পানির মুনাফা বেশি এবং দায় কম দেখানো হয়েছে বলেও নিরীক্ষক জানিয়েছেন।
এ ছাড়া পুঁজিবাজারে বিভিন্ন কোম্পানি ও ফান্ডে ৪০ কোটি ১৭ লাখ ৯৬ হাজার ২৭৬ টাকা বিনিয়োগ করে বিদায়ী বছরে এর বাজারমূল্য নেমে এসেছে ৩০ কোটি ২৮ লাখ ৫১ হাজার ৪৪৫ টাকায়। এতে কোম্পানিটির আনরিয়েলাইজড লোকসান হয়েছে ৯ কোটি ৮৯ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ টাকা।
নিরীক্ষকের এসব পর্যবেক্ষণের বিষয়ে কোম্পানি ভবিষ্যতে বিধিমালা পরিপালনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে এসব অনিয়মের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বিএসইসি।
ইস্টার্ণ ইন্স্যুরেন্স নিরীক্ষককে জানিয়েছে, শ্রম আইন, ২০০৬-এর আলোকে ডব্লিউপিপিএফের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং পরবর্তী আর্থিক বিবরণীতে প্রয়োজনীয় প্রভিশন রাখা হবে।