সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেওয়া অতিরিক্ত দুই বোনাসের ১১৬ কোটি টাকা ফেরত আনার বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ কঠোর অবস্থানে থাকলেও তা আদায়ে কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। নিয়মবহির্ভূতভাবে দেওয়া এই অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত না দিয়ে বরং বিতরণ করা অর্থ মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে বারবার ছাড় চাইছে ব্যাংকটির শীর্ষ ব্যবস্থাপনা। আজ প্রথম আলোতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সম্প্রতি সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠিয়ে ২০২৩ সালের পারফরম্যান্সের জন্য দেওয়া বাড়তি দুই বোনাসের অর্থ কর্মীদের কাছ থেকে অবিলম্বে ফেরত নিয়ে সমন্বয়ের তাগিদ দেয়। এর আগেও একাধিক নির্দেশনায় মন্ত্রণালয় পরিষ্কার জানিয়ে দেয়, বিদ্যমান কোনো নীতিমালায় তিনটির বেশি প্রণোদনা বোনাস দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে সোনালী ব্যাংকের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শওকত আলী খান জানান, অর্থ যেহেতু আগে পরিশোধ করা হয়ে গেছে, তাই বিষয়টি মেনে নেওয়ার জন্য তারা সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন এবং নতুন করে আবারও একই আবেদন করবেন।
ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ নীতিমালার বাইরে গিয়ে এই বোনাস অনুমোদন করেছিল। ২০২৪ সালের আগস্টের শুরুতে একশ্রেণির কর্মীর আন্দোলনের মুখে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফজাল করিমকে অবরুদ্ধ করা হয়। পরবর্তীতে পরিচালনা পর্ষদের সভায় চাপের মুখে পাঁচ বোনাসের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই ঘটনার পর তৎকালীন চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেন এবং পরবর্তীতে দায়িত্ব নেওয়া পর্ষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরীও এই জটিলতা নিরসনে ব্যর্থ হন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনেও এই অনিয়ম চিহ্নিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সোনালী ব্যাংক ২০২৩ সালের জন্য প্রায় ২১ হাজার ৫০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে মোট পাঁচটি বোনাস বাবদ ২৯০ কোটি টাকা বিতরণ করেছে। ব্যাংকটির নিজস্ব নীতিমালায় সর্বোচ্চ তিনটি বোনাসের বিধান থাকা সত্ত্বেও শর্তসাপেক্ষে বাড়তি দুটি বোনাস দেওয়া হয়।
শর্তে বলা হয়েছিল, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বা নিরীক্ষায় আপত্তি উঠলে কর্মীরা ব্যক্তিগত অঙ্গীকারনামা অনুযায়ী টাকা ফেরত দিতে বাধ্য থাকবেন। প্রতিটি বোনাসের আকার প্রায় ৬০ কোটি টাকা হওয়ায় অতিরিক্ত দুই বোনাস বাবদ আটকে থাকা অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১৬ কোটি টাকা।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সোনালী ব্যাংকের অনিয়ম অনুমোদনের আবেদন ও ক্ষমা প্রার্থনা সরাসরি নাকচ করেছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোতে ঢালাও বোনাস দেওয়ার প্রবণতা বন্ধে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে সরকার। নতুন বিধিমালার আওতায় মূলধনের বিপরীতে নিট মুনাফা, আমানত বৃদ্ধি ও ঋণ আদায়সহ পাঁচটি সূচকের মূল্যায়নের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ তিনটি বোনাস পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।