প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘জীবনবান্ধব’ বললেন প্রধানমন্ত্রী

  • Update Time : Monday, June 29, 2026
প্রধানমন্ত্রী

০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘জীবনবান্ধব বাজেট’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এটি শুধু বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; বরং বাংলাদেশের অর্থনীতিকে নতুন ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর একটি রূপরেখা।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য অর্থনীতিকে মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগীদের প্রভাবমুক্ত করে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

এ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ১৮ ফেব্রুয়ারি সংসদ শুরু হওয়ার পর আমরা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজ এখানে এসেছি। আমরা অতীত নিয়ে আলোচনার চেয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে চাই। দেশের ২০ কোটি মানুষ চায় আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাজেট উপস্থাপনের দিনই ৬১টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক ও কর পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে। অতীতে দেখা যেত বাজেটের আগে-পরে জিনিসের দাম বেড়ে যেত, কিন্তু আল্লাহর রহমতে এবার তেমন কিছু ঘটেনি। আমরা জনগণকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিতে পেরেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার একটি ভেঙে পড়া অর্থনৈতিক বাস্তবতা থেকে যাত্রা শুরু করেছে। দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, লুটপাট এবং ‘ভ্যানিটি প্রজেক্ট’-কেন্দ্রিক ব্যয়ের কারণে দেশের অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও তলানিতে নেমে গিয়েছিল। তবে এই পরিস্থিতিকে অজুহাত হিসেবে নয়, বরং রাজনৈতিক সদিচ্ছার মাধ্যমে মোকাবিলা করতে চায়।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক চীন ও মালয়েশিয়া সফরে বাংলাদেশের বিনিয়োগবান্ধব নীতির ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও এ বিষয়ে প্রশংসা করেছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে উন্নয়ন ব্যয় ৫০ শতাংশের বেশি বাড়িয়ে ৩ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের অর্থনৈতিক কৌশল তিনটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হবে। দ্বিতীয় ধাপে রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার, ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আর তৃতীয় ধাপে উদ্ভাবননির্ভর প্রতিযোগিতামূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কেবল জিডিপির প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পেলেই প্রকৃত উন্নয়ন হয় না। উন্নয়নের সুফল তখনই আসে, যখন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরে আসে, কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পান এবং তরুণরা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্য সামনে রেখেই এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026 pujibazarpratidin
Site Customized By NewsTech.Com