গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে অগণতান্ত্রিক ধারা বাতিলের দাবি সম্পাদক পরিষদের

  • Update Time : Sunday, May 17, 2026

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিদ্যমান আইনের অগণতান্ত্রিক ধারাগুলো বাতিল ও পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ।

রোববার (১৭ মে) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পাদক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সদস্যদের বৈঠকে এ দাবি জানানো হয়।

বৈঠকে সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়, গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট অনেক আইন পুরোনো ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

বিশেষ করে পত্রিকা প্রকাশের ঘোষণাপত্রের ‘ফর্ম-বি’ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে সম্পাদক পরিষদ বলে, এতে প্রকাশকদের সরকারের স্বার্থবিরোধী বা আপত্তিকর কিছু প্রকাশ না করার অঙ্গীকার করতে হয়, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী।

সম্পাদক পরিষদের মতে, ১৯৭৩ সালের ছাপাখানা ও প্রকাশনা (ডিক্লারেশন ও রেজিস্ট্রেশন) আইনের এ ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও অগণতান্ত্রিক। তাই অবিলম্বে এটি বাতিলের দাবি জানায় তারা।

বৈঠকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গণমাধ্যম সংস্কারের লক্ষ্যে ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠন অথবা ‘প্রেস কাউন্সিল’কে আরও শক্তিশালী করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আগামী জুন মাসের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে তথ্যমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন। যাতে জুলাই মাসের মধ্যেই সরকার এ বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে গণমাধ্যমের স্ব-নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্পাদক পরিষদ জানায়, তারা ২০২৬ সালের জুলাই মাসের মধ্যে সাংবাদিকদের জন্য একটি ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ বা আচরণবিধি প্রণয়ন ও গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে।

বৈঠকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভিন্ন হয়রানিমূলক মামলার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করা হয়। সম্পাদক পরিষদ স্পষ্টভাবে জানায়, ন্যায়বিচারের স্বার্থে যেকোনো অভিযোগের যথাযথ অনুসন্ধান ও আইনি প্রক্রিয়া প্রয়োজন, তবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক মামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা প্রচলিত আইন ও স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার দাবি জানায় পরিষদ।

প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে সম্পাদক পরিষদকে আশ্বস্ত করে জানান, তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সরকার গণমাধ্যমের নিয়ন্ত্রক নয় বরং সহায়ক হিসেবে কাজ করতে চায়। একটি শক্তিশালী গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের অপরিহার্য অংশ হিসেবে অভিহিত করে তিনি এ বিষয়ে তার সরকারের আন্তরিকতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

সম্পাদক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর, সাধারণ সম্পাদক ও বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ এবং কোষাধ্যক্ষ ও দি ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, করতোয়া সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক এবং সুপ্রভাত বাংলাদেশ সম্পাদক রুশো মাহমুদ। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026 pujibazarpratidin
Site Customized By NewsTech.Com