পুঁজিবাজারে অনিয়মের তথ্য প্রদানকারীর সুরক্ষায় বিধিমালা

  • Update Time : Monday, March 2, 2026
বিএসইসি

পুঁজিবাজারে সংঘটিত অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, সুবিধাভোগী ব্যাবসা ও কারসাজির ব্যাপারে তথ্য প্রদানকারী ব্যক্তির সুরক্ষা নিশ্চিতে বিধিমালা প্রণয়ন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

‘পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ ও তথ্য প্রকাশকারীর (হুইসেল ব্লোয়ার) সুরক্ষা প্রদান বিধিমালা, ২০২৬’ শিরোনামে এই বিধিমালার খসড়া গত ১৭ ফেব্রুয়ারি কমিশন সভায় অনুমোদন করা হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এই বিধিমালার ওপরে মতামত, আপত্তি ও পরামর্শ আহ্বান করেছে বিএসইসি। বিএসইসিতে থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, কমিশন কর্তৃক নিবন্ধন সনদ প্রাপ্ত কোনো বাজার মধ্যস্থতাকারী বা কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানি বা নিবন্ধিত কোনো ফান্ড সংশ্লিষ্ট দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি দ্বারা অনিয়ম, বিধি লঙ্ঘন বা অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটতে পারে। এসব অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি তথ্য প্রদান করতে পারবেন। এজন্য তথ্য প্রকাশকারী ব্যক্তির সুরক্ষা নিশ্চিতে এই বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

বিধিমালায় তথ্য প্রকাশের পদ্ধতি, তথ্য প্রকাশকারীর অধিকার, তথ্য প্রকাশের পদ্ধতি, তথ্য প্রকাশকারীর সুরক্ষা এবং তথ্য প্রকাশের জন্য আর্থিক প্রণোদনা বা সম্মাননার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিধিমালার শুরুতে ২ নং ধারায় অপরাধের ধরণ বর্ণনা করা হয়েছে। এতে সিকিউরিটিজ আইন ও বিধি-বিধান লঙ্ঘন,প্রতারণামূলক কার্যক্রম, সুবিধাভোগী ব্যবসা (ইনসাইডার ট্রেডিং), বাজার কারসাজি (মার্কেট ম্যানিপুলেশন), অসদুপায়ে বা অন্য কোনো উপায়ে কোনো সিকিউরিটি ক্রয় বা বিক্রয়কে কোনো ব্যক্তির সুবিধার দিকে প্রলুদ্ধ বা প্রভাবিত করা।

এছাড়া, অর্থ আত্মসাৎ, অর্থের অপব্যবহার ও অর্থ পাচারসহ কমিশন কর্তৃক সময় সময় নির্ধারিত অন্য যে কোনো বিষয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিধিমালার ৪ নম্বর বিধিতে তথ্য প্রকাশের পদ্ধতি উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লিখিত পদ্ধতি অনুযায়ী, তথ্য প্রকাশকারী ফরম-১ এ অনিয়মের বিষয়ে যেকোন তথ্য কর্তৃপক্ষের নিকট, লিখিতভাবে, সরাসরি হাতে হাতে, ডাকযোগে বা যেকোন ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমে প্রেরণ করতে পারবে। এক্ষেত্রে প্রত্যেকটি তথ্য প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয় এমন সহায়ক দলিল বা উপকরণ দ্বারা সমর্থিত হতে হবে।

৫ নম্বর বিধিতে অনুযায়ী তথ্য প্রকাশকারীর সুরক্ষা প্রদান করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি তথ্য প্রকাশ করলে উক্ত ব্যক্তির সম্মতি ব্যতীত এবং আইনি প্রয়োজন না হলে তার পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না। সেইসাথে তথ্য প্রকাশকারী কোনো চাকরিজীবী হলে, তথ্য প্রকাশ করার কারণে তার বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না- যাতে তার মানসিক, আর্থিক বা সামাজিক সুনামের জন্য ক্ষতিকর হয়।

বিধিমালার ১৫ নম্বর বিধিতে তথ্য প্রকাশের জন্য আর্থিক প্রণোদনা বা সম্মাননার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে অর্থ বা জরিমানা আদায় হলে সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রকাশকারীকে আদায়কৃত জরিমানা বা অর্থদণ্ডের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ প্রদান করতে পারবে। তবে, এক্ষেত্রে আর্থিক প্রণোদনার পরিমাণ কোনক্রমেই ১০ কোটি টাকার বেশি হবে না।

৭ নম্বর বিধি অনুযায়ী বিধিমালায় উল্লিখিত দপ্তরে ফরম-২ অনুযায়ী একটি রেজিস্টারে তথ্য প্রকাশকারীর ব্যক্তিগত তথ্যসহ আনুসঙ্গিক তথ্য গোপনীয়ভাবে সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। এই তথ্য যাতে প্রকাশ না পায় সেজন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তথ্যের গোপনীয়তা ক্ষুন্ণ হলে প্রকাশিত তথ্য সম্পর্কে জানেন এমন প্রত্যেক কর্মকর্তা দায়ী হবেন।

একই বিধিমালার ফরম-৩ এ কমিশন মনোনীত কর্মকর্তা প্রকাশিত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির তথ্য লিপিবদ্ধ করে গোপনীয়ভাবে সংরক্ষণ করবে। পরবর্তীতে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রাথমিক প্রতিবেদন ফরম-৪ অনুযায়ী তৈরি করবে। সর্বশেষ ফরম-৫ অনুযায়ী একটি মূল্যায়ণ প্রতিবেদন তৈরি করে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নিকট উপস্থাপন করবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026 pujibazarpratidin
Site Customized By NewsTech.Com