শিরোনাম
দেড় মাস পর ডলার কিনলো বাংলাদেশ ব্যাংক বীমা শিল্পে ‘অদম্য নিষ্ঠাবান’ এস এম নুরুজ্জামানের জন্মদিন ইউসিবি-এসএমই ফাউন্ডেশনের চুক্তি, ক্ষুদ্র শিল্পে ৮ শতাংশ হারে ঋণ মিলবে ভ্যাট রিটার্ন জমার সময় বাড়ল ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত এপ্রিলের দুই সপ্তাহে এল ১৯৬০৫ কোটি টাকার প্রবাসী আয় বিশ্ববাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কমল জ্বালানি তেলের দাম ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ৪৮১ ‘ভুয়া’ মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি বাতিল: সংসদে মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী জ্বালানি চাহিদা মেটাতে উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে ২০০ কোটি ডলার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়িক সাফল্যে বিশেষ অবদান রাখায় ওয়ালটনের ১৮৮ প্লাজা ও কর্মকর্তা পুরস্কৃত সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসি’র কাওরান বাজার শাখা নতুন ঠিকানায় স্থানান্তর

অনলাইন ক্লাসে ‘না’ শিক্ষক-অভিভাকদের, মোবাইল আসক্তি বাড়ার শঙ্কা

  • Update Time : Thursday, April 9, 2026

অনলাইন ক্লাসে ‘না’ জানিয়ে সরাসরি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চালু রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা। তাদের মতে, অনলাইন শিক্ষায় ডিভাইস সংকট, ইন্টারনেট ব্যয় ও পাঠে মনোযোগ ধরে রাখার সীমাবদ্ধতা যেমন রয়েছে, তেমনি মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার শিক্ষার্থীদের মধ্যে আসক্তি বাড়ানোর ঝুঁকিও তৈরি করছে। 

বুধবার (৮ এপ্রিল) বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখার উপায় নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণকারীরা এসব উদ্বেগ তুলে ধরে সরাসরি ক্লাস চালু রাখার পক্ষে জোরালো মত দেন।

সেমিনারে অংশ নেওয়া তিথি আহমেদ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘অনলাইন ক্লাসে সরাসরি প্রশ্ন করা যায় না, ফলে পড়াশোনায় ঘাটতি থেকে যায়। বর্তমান প্রজন্মের অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসের নামে মোবাইল গেমে আসক্ত হয়ে পড়ছে। এছাড়া এক পরিবারে একাধিক শিক্ষার্থী থাকলে সবার জন্য আলাদা ডিভাইস ও কক্ষ নিশ্চিত করা অভিভাবকদের জন্য কষ্টসাধ্য।’

নয়াতলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী কামাল হোসেন বলেন, ‘স্মার্টফোন কেনার সামর্থ্য অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারের নেই। এছাড়া বাসায় ফ্যান, লাইট ও ইন্টারনেটের খরচ অফলাইন ক্লাসের চেয়ে বেশি।’

আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের অভিভাবক প্রতিনিধি আক্তার বলেন, ‘ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহারে শিশুদের চোখের ও মানসিক সমস্যা হচ্ছে। যানজট নিরসনে অনলাইন ক্লাসের বদলে স্কুল বাস বা গ্রুপ ট্রান্সপোর্ট চালু করা যেতে পারে।’

হযরত শাহ আলী উচ্চবিদ্যালয়ের অভিভাবক শাহিদা বেগম বলেন, ‘পাঁচ ঘণ্টার বদলে তিন ঘণ্টা ক্লাস হোক, তবুও সরাসরি শিক্ষা কার্যক্রম চলুক।’ অন্য এক অভিভাবক সপ্তাহে ৩-৪ দিন ক্লাস করার প্রস্তাব দেন।

মতবিনময় সভায় শিক্ষক ও শিক্ষাবিদদেরা পরামর্শ দেন প্রয়োজন হলে ক্লাসের সময় কমানোর৷

নারিন্দা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দা আক্তার ছয়টি পিরিয়ডের বদলে চারটি পিরিয়ড করার এবং এসি বন্ধ রেখে দিনের আলোতে ক্লাস নেওয়ার পরামর্শ দেন।

এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. আব্দুস সালাম বলেন, ‘সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র-শনিবারের পরিবর্তে এলাকাভেদে ভিন্ন দিনে দিয়ে যানজট ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব। এছাড়া কার-পুলিং (এক গাড়িতে চারজন) পদ্ধতি চালুর ওপর জোর দেন তিনি।’

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রফেসর ডক্টর মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, ‘শিক্ষা কার্যক্রম কোনোভাবেই বন্ধ রাখা ঠিক হবে না। সংকট ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এটি মোকাবিলা করতে হবে, যাতে কোনো গোষ্ঠী একে রাজনৈতিক ইস্যু করতে না পারে।’

এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ উপস্থিত ছিলেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর বি. এম. আব্দুল হান্নান।

সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026 pujibazarpratidin
Site Customized By NewsTech.Com