শিরোনাম
দেড় মাস পর ডলার কিনলো বাংলাদেশ ব্যাংক বীমা শিল্পে ‘অদম্য নিষ্ঠাবান’ এস এম নুরুজ্জামানের জন্মদিন ইউসিবি-এসএমই ফাউন্ডেশনের চুক্তি, ক্ষুদ্র শিল্পে ৮ শতাংশ হারে ঋণ মিলবে ভ্যাট রিটার্ন জমার সময় বাড়ল ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত এপ্রিলের দুই সপ্তাহে এল ১৯৬০৫ কোটি টাকার প্রবাসী আয় বিশ্ববাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কমল জ্বালানি তেলের দাম ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ৪৮১ ‘ভুয়া’ মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি বাতিল: সংসদে মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী জ্বালানি চাহিদা মেটাতে উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে ২০০ কোটি ডলার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়িক সাফল্যে বিশেষ অবদান রাখায় ওয়ালটনের ১৮৮ প্লাজা ও কর্মকর্তা পুরস্কৃত সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসি’র কাওরান বাজার শাখা নতুন ঠিকানায় স্থানান্তর

দেশে বাড়তে পারে নতুন করে ১২ লাখ গরিব মানুষ: বিশ্বব্যাংক

  • Update Time : Wednesday, April 8, 2026

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে এ বছর বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ গরিব মানুষ বাড়তে পারে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে তাদের প্রকৃত আয় কমতে পারে। তারা দারিদ্র্য সীমার ওপরে উঠতে পারবে না, এমন কথা বলছে বিশ্বব্যাংক।

আজ বুধবার বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনের এপ্রিল সংস্করণ প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। সেখানে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের কত মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপরে ওঠতে পারবেন না, এর একটি হিসাব দেওয়া হয়েছে। এখন কোনো কর্মক্ষম ব্যক্তি দিনে তিন ডলারের কম আয় করলে দরিদ্র হিসেবে ধরা হয়।

প্রতিবেদনটি প্রকাশ উপলক্ষে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে আজ সকালে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ ধ্রুব শর্মা।

এ ছাড়া বিশ্বব্যাংক বলছে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছর বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতিসহ নানা কারণে দারিদ্র্য বাড়ছে। ২০২২ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২১ দশমিক ৪ শতাংশে। ২০২৫ সালে নতুন করে ১৪ লাখ মানুষ গরিব হয়েছেন।

বিশ্বব্যাংক আরও বলছে, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের আগে ধারণা করা হয়েছিল চলতি বছর ১৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপরে ওঠবেন, কিন্তু যুদ্ধের কারণে মাত্র ৫ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপরে ওঠতে পারেন। এর মানে, এ বছর প্রায় ১২ লাখ মানুষ গরিব থেকে যাবেন। বিশ্বব্যাংক বলছে, যুদ্ধাবস্তা না থাকলে ২০২৮ সাল নাগাদ দারিদ্র্যের হার ১৯ দশমিক ৩ শতাংশে নামতে পারে।

প্রতিবেদনে দারিদ্র্য বেড়ে যাওয়ার কয়েকটি কারণ বলা হয়েছে। এগুলো হলো উচ্চ মূল্যস্ফীতি, শ্রমের কম মজুরি, কর্মসংস্থানের গতি যাওয়া। এ ছাড়া বৈষম্য বাড়বে, এমন পূর্বাভাসও দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংকের মতে, ইরান যুদ্ধের কারণে এ বছর দারিদ্র্যের হার কমবে মাত্র দশমিক ৭ শতাংশ। প্রতিবছর গড়ে ১ শতাংশের বেশি হারে দারিদ্র্য কমে।

বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর বাংলাদেশ ও ভুটান জ্যঁ পেম বলেন, বাংলাদেশে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কের কারণে বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া কয়েক বছর ধরে দারিদ্র্য কমার গতি কমেছে। তাঁর মতে, শোভন কর্মসংস্থানের জন্য বিনিয়োগ পরিবেশ সহজ করা দরকার।

জ্যঁ পেম বলেন, বিগত দিনে প্রয়োজনীয় যেসব সংস্কারের উদ্যোগ শুরু হয়েছে, এই সংস্কার যেন অব্যাহত থাকে। যদিও সংস্কার খুব কঠিন হবে। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে দ্রুত স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব বাংলাদেশের অন্তত ছয়টি খাতে পড়তে পারে। চলতি হিসাবের ভারসাম্যের স্থিতিশীলতা নষ্ট হতে পারে। আমদানি-রপ্তানি, প্রবাসী আয়, টাকার অবমূল্যায়নে প্রভাব পড়তে পারে। ভোগব্যয় ও বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাবের কারণে জিডিপির প্রবৃদ্ধিতে টান পড়তে পারে। জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহনের খরচ বেড়ে গেলে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে। ১২ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্য সীমার নিচে নেমে যেতে পারেন। আর্থিক চাপ বাড়তে পারে, যেমন সার ও জ্বালানিতে ভর্তুকি খরচ বৃদ্ধি। বৈষম্য বাড়তে পারে এবং ২০২৬ সালে গিনি সূচক দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026 pujibazarpratidin
Site Customized By NewsTech.Com