শিরোনাম
দেড় মাস পর ডলার কিনলো বাংলাদেশ ব্যাংক বীমা শিল্পে ‘অদম্য নিষ্ঠাবান’ এস এম নুরুজ্জামানের জন্মদিন ইউসিবি-এসএমই ফাউন্ডেশনের চুক্তি, ক্ষুদ্র শিল্পে ৮ শতাংশ হারে ঋণ মিলবে ভ্যাট রিটার্ন জমার সময় বাড়ল ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত এপ্রিলের দুই সপ্তাহে এল ১৯৬০৫ কোটি টাকার প্রবাসী আয় বিশ্ববাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কমল জ্বালানি তেলের দাম ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ৪৮১ ‘ভুয়া’ মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি বাতিল: সংসদে মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী জ্বালানি চাহিদা মেটাতে উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে ২০০ কোটি ডলার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়িক সাফল্যে বিশেষ অবদান রাখায় ওয়ালটনের ১৮৮ প্লাজা ও কর্মকর্তা পুরস্কৃত সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসি’র কাওরান বাজার শাখা নতুন ঠিকানায় স্থানান্তর

বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে আমানতকারীদের অবস্থান, বিক্ষোভ

  • Update Time : Tuesday, April 7, 2026

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

হতাশা ও ক্ষোভ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংক ও পদ্মা ব্যাংকের ভুক্তভোগী আমানতকারীরা।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ ভুক্তভোগী ব্যাংক আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করেন গ্রাহকরা।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া এক আমানতকারী বলেন, ঘরে টাকা রাখি না ডাকাতের ভয়ে, তাই ব্যাংকে রেখেছিলাম। এখন দেখি এখানেও ডাকাত। তাহলে আমরা কোথায় টাকা রাখব?

এক্সিম ব্যাংকের এক গ্রাহক জানান, তিনি ছোট কাপড়ের ব্যবসা করেন। প্রতি মাসে অল্প অল্প করে জমিয়ে একটি ডিপোজিট করেছিলেন, যা গত ডিসেম্বরে মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু এখনো সেই টাকা তুলতে পারেননি।

তিনি বলেন, ঈদের সময় টাকার অভাবে ব্যবসা করতে পারেননি। নিজের জমানো টাকা ব্যাংকে পড়ে আছে, তুলতে পারছেন না—এটা অন্যায়। তারা কোনো অনুদান চান না, আমানত ও মুনাফাসহ পুরো টাকা ফেরত চান।

নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের আরেক আমানতকারী বলেন, জমি বিক্রির টাকা ঘরে রাখেননি ডাকাতের ভয়ে, তাই ব্যাংকে রেখেছিলেন। এখন ব্যাংকেই বড় ডাকাত দেখা যাচ্ছে। তাহলে তারা কোথায় যাবেন?

আমানতকারীরা বলেন, ব্যাংকগুলো আমানতকারীদের টাকা দিয়ে ব্যবসা করে। কোথায় বিনিয়োগ করা হবে তা সঠিকভাবে যাচাই করা উচিত ছিল। কিন্তু কিছু পরিচালক ও কর্মকর্তার যোগসাজশে ঋণের নামে অর্থ লুটপাট হয়েছে। এই দায় আমানতকারীদের নয়। লুটপাটের টাকা উদ্ধার করে অথবা সম্পদ বিক্রি করে আমানত ফেরত দিতে হবে।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া আমানতকারীরা দুটি দাবি জানান— প্রথমত, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর আরোপিত হেয়ার কাট প্রত্যাহার করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ব্যাংকিং লেনদেন স্বাভাবিক করতে হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র ও পরিচালক মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে, যা গত ডিসেম্বর থেকে কার্যক্রম শুরু করেছে। আমানতকারীদের টাকা ফেরতের জন্য একটি বিশেষ স্কিম চালু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এই স্কিম অনুযায়ী একজন গ্রাহক প্রথম ধাপে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা তুলতে পারবেন। যাদের আমানত দুই লাখ টাকার বেশি, তারা প্রতি তিন মাস অন্তর সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা করে তুলতে পারবেন। পুরো অর্থ তুলতে সময় লাগবে প্রায় একুশ মাস। ডিপিএস ও এফডিআরের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান জানিয়েছেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং অতীতে অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করে।
নতুন এ ব্যাংকটি প্রায় পঁয়ত্রিশ হাজার কোটি টাকার মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে বিশ হাজার কোটি টাকা এবং বাকি পনেরো হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের মধ্যে তহবিল হিসেবে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া প্রায় আটাত্তর লাখ আমানতকারীর জন্য আমানত বিমা তহবিল থেকে দুই লাখ টাকা করে মোট বারো হাজার কোটি টাকা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026 pujibazarpratidin
Site Customized By NewsTech.Com