শিরোনাম

স্যোশাল ইসলামী ব্যাংক পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস হয়েছে

  • Update Time : Monday, March 30, 2026

স্যোশাল ইসলামী ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালক ও সাবেক চেয়ারম্যান মেজর ডা. রেজাউল হকের (অব.) আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান অভিযোগ করেছেন, গত সাত থেকে আট বছরে ব্যাংকটি পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ অনেক বেশি। তাই প্রতিষ্ঠানটিকে পুনরুদ্ধারে অন্তত আট বছর সময় প্রয়োজন।

সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সব ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য জানা থাকার পরও কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। বরং নীরব থেকেছে। এখন পর্যন্ত এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত কোনো কর্মকর্তা বা ব্যাংকারের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান বিচার হয়নি।

মাহমুদুল হাসান আরও অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে গোয়েন্দা সংস্থার কার্যালয়ে নিয়ে জোরপূর্বক সই করিয়ে ব্যাংকের মালিকানা ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। জীবননাশের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে পারেননি।

তিনি বলেন, ৫ আগস্ট নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর উদ্যোক্তাদের আশা ছিল ব্যাংকটিকে পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের অসহযোগিতার কারণে ব্যাংকটি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি। উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডারদের পাশ কাটিয়ে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের হাতে ব্যাংকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। গত দেড় বছরে তারা ব্যাংকের স্বার্থ রক্ষা করতে পারেননি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

মাহমুদুল হাসান বলেন, বর্তমানে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ অনেক বেশি। একদিনে এত বড় দায় পরিশোধ করা সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন, আইডিবিসহ কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠী ব্যাংকটিতে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। পর্যাপ্ত সময় পেলে ব্যাংকটি পুনরুদ্ধারে সক্ষম হবে।

লিখিত বক্তব্যে সাবেক চেয়ারম্যান মেজর ডা. রেজাউল হক (অব.) বলেন, যারা গত দেড় বছরে ব্যাংকের পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন, তাদের কর্মকাণ্ডে ব্যাংকটি আরও সংকটে পড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তে শেয়ার শূন্যে নামিয়ে শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে এবং এস আলম গ্রুপের দুর্নীতির দায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ওপর চাপানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ব্যাংককে মার্জার প্রক্রিয়া থেকে অব্যাহতি দেওয়া এবং প্রকৃত উদ্যোক্তাদের হাতে দায়িত্ব ফিরিয়ে দিলে ব্যাংকটি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করতে পারতেন। বর্তমান প্রশাসন আমানতকারী ও ব্যবসায়ীদের যথাযথ সহযোগিতা করছে না।

মাহমুদুল হাসান ব্যাংক রেগুলেশন অ্যাক্ট ২০২৫ পাস না করারও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ব্যাংকের স্বার্থরক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে এবং লুটপাটের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ছিল। তাই বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চান।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকের হাজার হাজার আমানতকারীর অর্থ ফেরত দেওয়ার কথা বলা হলেও তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত অনেক ব্যবসায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তা না পেয়ে ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এই পরিস্থিতির দ্রুত সমাধানে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 pujibazarpratidin
Site Customized By NewsTech.Com