জুলাই জাতীয় সনদ’ ও সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশের ওপর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের আলোচনার দাবির পর সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে হট্টগোল হয়েছে। রোববার সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে বিরোধীদলীয় নেতা পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এই দাবি জানান।
শফিকুর রহমান এ সময় সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বান ও এ বিষয়ে আলোচনার দাবি তোলেন। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বিরোধীদলীয় নেতার নোটিশ ও মুলতবি প্রস্তাবকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যে বিধির আওতায় এই নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তা বৈধ নয়। মন্ত্রীর এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই সংসদে হট্টগোল শুরু হয়।
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, ‘স্পিকারের পরামর্শ অনুযায়ী আমি যথাযথভাবে নোটিশটি উত্থাপন করলাম। জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫-এর আলোকে আমি সংবিধান সংস্কার পরিষদ আহ্বানের বিষয়ে নোটিশটি দিয়েছি। সেখানে বিস্তারিত আছে। আপনি আলোচনার জন্য এটি মঞ্জুর করবেন বলে বিশ্বাস করি।’
তাঁর এই বক্তব্যের পরপরই সংসদীয় কার্যপ্রণালি বিধি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সরকারি দলের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রথা অনুযায়ী তারকাচিহ্নিত প্রশ্ন এবং ৭১ বিধি শেষ হওয়ার পরই যেকোনো বিষয় উত্থাপন করা হয়। বিরোধীদলীয় নেতাকে অনুরোধ করব, বিধি শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে।’
এরপর আবার মাইক নিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘সেদিন স্পিকার বলেছিলেন, এ ধরনের আলোচনার বিষয় থাকলে প্রশ্নোত্তরের পরেই হবে। সে মোতাবেকই দাঁড়িয়েছি। আমি মনে করি, এটা আমার অধিকার ও দায়িত্ব।’
এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বক্তব্য দিতে চাইলে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা আপত্তি জানান। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতা আলোচনার জন্য একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। আমাদের চিফ হুইপ যেটা বলেছেন, আমাদের রীতি অনুযায়ী প্রশ্নোত্তর পর্ব ও ৭১ বিধির পরেই এ জাতীয় মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। তাঁর (বিরোধীদলীয় নেতা) নোটিশের বিষয়ে আমাদেরও দুই-চার কথা থাকতে পারে।’
এ সময় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট হয়েছিল। এখন সংসদের কার্যক্রম দেখলে মনে হচ্ছে, এ ধরনের কিছুই হয়নি। এটি সবচেয়ে বেশি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ সংসদে এটি নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত।’
পরে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বিরোধীদলীয় নেতার উদ্দেশে বলেন, ‘আপনার বিধিটি আমরা দেখছি। ৭১ বিধির পরেই নোটিশটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাব।’ শফিকুর রহমান আবারও মাইক নিয়ে বলেন, ‘৬৪ বিধি অনুযায়ী প্রশ্নোত্তর পর্বের পরপরই এটি উত্থাপন করার সুযোগ আছে।’
একপর্যায়ে সরকারি দলের চিফ হুইপ বলেন, স্পিকার চাইলে প্রশ্নোত্তর ও ৭১ বিধি স্থগিত রেখে যেকোনো আলোচনা করতে পারেন। সবশেষে ডেপুটি স্পিকার সংসদীয় বিধি অনুসরণ করে পরবর্তী কার্যদিবসে বা নির্ধারিত সময়ে বিষয়টি আলোচনার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।









