যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভে নেমেছেন হাজার হাজার মানুষ, যা দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের সূচনার এক মাসের মাথায় শনিবার ‘নো কিংস’ আন্দোলনের তৃতীয় দফা কর্মসূচি পালিত হয়।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যে ৩ হাজার ৩০০-এরও বেশি কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নিউ ইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস ও ওয়াশিংটন সবচেয়ে বড় সমাবেশ দেখা গেছে। একই সময়ে ইউরোপের রোম, প্যারিস ও বার্লিনেও সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে।
আয়োজকরা জানান, এবারের কর্মসূচিতে বড় শহরের পাশাপাশি রক্ষণশীল এলাকাগুলোতেও আন্দোলন বিস্তারের চেষ্টা করা হয়েছে। প্রগতিশীল সংগঠন ইনডিভিজিবলের সহপ্রতিষ্ঠাতা লিয়া গ্রিনবার্গ বলেন, বিক্ষোভের গুরুত্ব শুধু অংশগ্রহণকারীর সংখ্যায় নয়, বরং কোন এলাকায় তা ছড়িয়ে পড়ছে—সেটিই বড় বিষয়।
সবচেয়ে বড় জমায়েত হয় মিনেসোটার মিনিয়াপোলিস-সেন্ট পল এলাকায়। গত ডিসেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ অভিযানে সেখানে ব্যাপক অভিবাসনবিরোধী অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভ তৈরি হয়, যা শনিবারের সমাবেশে বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়।
সমাবেশে প্রগতিশীল সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স বক্তব্য দেন। এছাড়া সংগীত পরিবেশন করেন ব্রুস স্প্রিংস্টিন ও জোয়ান বায়েজ। অভিনেতা রবার্ট ডি নিরো ভিডিও বার্তায় বিক্ষোভকারীদের সাহস ও অবস্থানের প্রশংসা করেন।
রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে লিঙ্কন মেমোরিয়াল ও ওয়াশিংটন মনুমেন্ট এলাকার আশপাশে বিক্ষোভকারীরা প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান নেন। সেখানে বার্নি স্যান্ডার্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে কর্তৃত্ববাদ বা ধনকুবেরদের নিয়ন্ত্রণে যেতে দেওয়া হবে না।
এর আগে ‘নো কিংস’ আন্দোলনের দুটি বড় কর্মসূচি গত বছরের জুন ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে লাখো মানুষ অংশ নেন। সর্বশেষ এই বিক্ষোভ আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কমতে থাকা জনপ্রিয়তার প্রেক্ষাপটে কংগ্রেসে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার কৌশল নিচ্ছে।