এনআরবিসি ব্যাংকের পূর্ববর্তী পর্ষদ ভেঙ্গে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে আলী হোসেন প্রধানিয়ার নেতৃত্বে গঠন করা হয় নতুন পর্ষদ, যা এখন ব্যাংকে পরিচিত ‘নয়া বন্দোবস্ত’ নামে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে যে, সংস্কারের নামে বর্তমানে ব্যাংকটিতে নজিরবিহীন দুর্নীতি, নিয়োগ-বাণিজ্য, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার চলমান রয়েছে।
ব্যাংক লুটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরই পুনরায় ব্যাংক পুনর্গঠনের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের আমলে যারা ব্যাংক ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে তাদেরকেই চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
বর্তমান চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নেতৃত্বে গঠিত একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট পরিকল্পিতভাবে ব্যাংকটিকে গ্রাস করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তাদের চরম স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছেন।
সুশাসন প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে তারা নিজেদের ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থ রক্ষায় অধিক মনোযোগী হয়ে উঠেছেন। বর্তমান চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়ার কর্মজীবন ফ্লোরা লিঃ থেকে ক্রয়সংক্রান্ত দূর্নীতিতে অভিযুক্ত।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর থাকাকালীন, ফ্লোরা লিঃ থেকে সকল ক্রয় ছিল তার অবৈধ লেনদেন এর বিনিময়ে, যার স্বাক্ষী ফ্লোরা লিঃ এর তৎকালীন ম্যানেজার এবং কর্মচারীবৃন্দ। প্রবাসীর রক্ত ঝরানো রেমিটেন্সে প্রতিষ্ঠিত ব্যাংকের জনগণের আমানতের টাকায় এখন চলছে তার বিলাসী জীবন যাপন।
প্রধান কার্যালয়ে পুর্ববর্তী পরিচালকগণ যে কক্ষ ব্যবহার করতেন, সেই কক্ষে তার ব্যাক্তিগত আরাম আয়েশ নিশ্চিত করতে শুধুমাত্র বিলাসী বাথরুম তৈরীতে খরচ করেছেন ৮ লক্ষ টাকার অধিক। বিলাসী কক্ষে বসে সারাদিন অফিস করার নামে তথাকথিত ‘নয়া বন্দবস্ত’ এর শলা পরামর্শ করেন।
আর এক স্বতন্ত্র পরিচালক, আবুল বশর (সাবেক ইডি, বাংলাদেশ ব্যাংক) যিনি চট্টগ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন কিন্তু তার বাসার প্রতিদিনের বাজার করে দিতে হয় ব্যাংকের ও.আর, নিজাম রোড শাখা থেকে। তার ও তার পরিবারের জন্য সবসময় নিয়োজিত রাখতে হয় ব্যাংকের একাধিক গাড়ী ও ড্রাইভার। সম্প্রতি ব্যাংকের লিগ্যাল অফিসার নিয়োগে আত্মীয় পরিচয়ে কিন্তু টাকার বিনিময়ে কমপক্ষে তিনজনকে নিয়োগ দিতে বাধ্য করেন এই পরিচালক।
বর্তমানে প্রতিমাসে ২ থেকে ৬ টি বোর্ড মিটিং করা হয় এবং এক একটি বোর্ড মিটিং ২-৩ দিন ধরে চলে। প্রতিটি বোর্ড মিটিং এর জন্য আবুল বশর সাহেব কে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা আপ-ডাউন বিমান টিকিট দিতে হয় ব্যাংকের খরচে। আবার ব্যাংকের টাকায় তাদেরকে ঢাকায় ফাইভ স্টার হোটেলে রাখতে হয়।
সর্বগ্রাসী ম্যানেজিং ডিরেক্টর- তথাকথিত ‘নয়া বন্দোবস্ত’ এর পর্ষদ ব্যাংকের জন্য খুঁজে আনে একজন অনভিজ্ঞ, নৈতিক স্খলনের মানুষ, জ্ঞানপাপী তৌহিদুল আলম খান কে। যিনি আবার কোন ব্যাংকেই ছয় মাস থেকে এক বছরের বেশী চাকরী করতে পারেন না। সর্বশেষ ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে চাকরী হারিয়ে বেকার থাকা অবস্থায় অগ্রনী ব্যাংকের পুরানো বন্দোবস্তের সঙ্গী আলী হোসেন প্রধানিয়ার হাত ধরে আসেন এনআরবিসি ব্যাংকে।
এনআরবিসি ব্যাংকের প্রধান শক্তি এর দেশব্যাপী বিস্তৃত শাখা ও উপশাখা, মাঠ পর্যায়ের কয়েক হাজার উদ্যমী কর্মী বাহিনী এবং গণমানুষের উপযোগী বিভিন্ন লোন প্রোডাক্ট যেমন মাইক্রো ক্রেডিট, নিউজেন, উন্নয়ন বিনিয়োগ। এইসব লোন প্রোডাক্টে এনআরবিসি ব্যাংকের ২০২৪ সালের বাজার হিস্যা ছিলো প্রায় ৪০%-৭০%। কিন্তু বর্তমান এমডি ব্যাংকে যোগদান করেই এই সকল ব্যাবসা বন্ধের জন্য কূট-কৌশলের আশ্রয় নেন। শুদ্ধতার বুলি আউড়ে আস্তে আস্তে ব্যাংকের ব্যাবসা কমাতে থাকেন, যাতে ব্যাংক লাভের পরিবর্তে লস এ থাকে আর তাদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার কূট-কৌশল আটতে থাকেন। ব্যাংক লস দেখিয়ে এর মালিকানা প্রবাসী উদ্যোক্তাদের থেকে কেড়ে নিয়ে অন্দরমহলে গুপ্ত ফ্যাসিষ্ট এর দোসরদের কাছে হস্তান্তর এর নীল-নকশা আটছেন।
আবার ব্যবসা কম হচ্ছে দেখিয়ে উদ্যমী তরুন কর্মকর্তাদের নন-পারফর্মার ট্যাগ লাগিয়ে চাকরিচ্যুত করার পাইয়তারা করতে থাকে। কিন্তু মাঠের কর্মীদের দৃঢ় অবস্থানের কারনে বাধ্য হন কিছু ব্যবসা করতে, যার ফলে ২০২৪ সালে ৮২০ কোটি টাকা লাভ হলেও ২০২৫ সালে লাভ দাঁড়ায় ৪৫৭ কোটি টাকা।
ব্যাংকে কর্পোরেট কালচার ভেঙ্গে প্রতিষ্ঠিত করেন তোষামোদী কালচার। ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান এর পিএস হিসেবে নিয়োগ দেন একজন নারীলিঙ্গু ও নারী হেনস্থাকারী অফিসার ফারহান নওরোজ নুর কে, যার শারীরিক হেনস্থার কারনে একাধিক নারী সহকর্মী চাকরী ছাড়তে বাধ্য হয়।
টাকার বিনিময়ে নিয়োগ ও প্রোমোশন- বর্তমান পর্ষদ ও তাদের নিয়োগকৃত এমডি ব্যাংকে এসেই শুরু করেন পুরানো কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরী খাওয়ার খেলা। ব্যাংকের নন পারফর্মারদেরকে টাকার বিনিময়ে প্রোমোশন এবং সেই প্রোমোশন দুই বছর আগের তারিখ থেকে কার্যকর করার মত বিশৃংখলা। অথচ প্রতি বছরই এই ব্যাংকে নিয়মিত প্রমোশন দেয়া হতো।
এমডির স্বজনপ্রীতির কারনে শেরপুর উপশাখার ইন-চার্জ কে দুই বছর পূর্বের তারিখ ধরে প্রোমোশন দেয়া হয়, অথচ গতবছরই এই একই ব্যাক্তি খারাপ পারফরমেন্স এর কারনে প্রোমোশন পাননি, যদিও দুই বারেই ভাইবা বোর্ডে অধিকাংশ একই সদস্য ছিলেন। এছাড়াও, কালিয়াকৈর শাখার একজন অফিসার (বর্তমানে হেড অফিসের রিকভারী ডিভিশনে কর্মরত) অর্থ আত্মস্মাৎ এর অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ার পরও তাকে অর্থের বিনিময়ে প্রোমোশন দেয়া হয়। এরকম বহু উদাহরন রয়েছে বর্তমান এমডির দেয়া প্রমোশন গুলোতে।
বর্তমান এমডির নিজের যেমন ছয় মাস চাকরি ছিলোনা, তেমনি তার খয়ের খা এস.কে তারেক নেওয়াজ (ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে চাকরী হারানো) কে ১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে এনআরবিসি ব্যাংকে চাকরি দিয়ে পূনর্বাসন করা হয়।
কমিউনিটি ব্যাংকে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত ডিএমডি আঃ কাইয়ুম খান কে ২০ লক্ষ টাকা ও আইটি সংক্রান্ত ক্রয় এর কমিশন এর নিশ্চয়তা প্রদান সাপেক্ষে এনআরবিসি ব্যাংকে নিয়োগ প্রদান করে পূনর্বাসন করা হয় এই বর্তমান এমডির মাধ্যমে।
সাউথ বাংলা ব্যাংক থেকে স্বজনপ্রীতি ও দূর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হয়ে পদত্যাগে বাধ্য হওয়া নারীলিঙ্গু ও মদ্যপ ফয়সাল আহমেদ কে ১৫ লক্ষ টাকা এবং নিয়োগ বানিজ্যের কমিশন এর নিশ্চয়তা প্রদান সাপেক্ষে হেড অব এইচ আর পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়।
ভূয়া লোন ও কমিশন বানিজ্যের অভিযোগে সাউথ বাংলা ব্যাংক থেকে পদত্যাগে বাধ্য হওয়া মইনুল ইসলামকে ১৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে প্রিন্সিপাল ব্রাঞ্চের ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন।
বর্তমান চেয়ারম্যান এর বান্ধবী ফাহমিদা চৌধুরী বিগত ১০ বছরে কোন ব্যাংকে প্রোমোশন না পেলেও, এনআরবিসি ব্যাংকে ১৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে দ্বিগুন বেতনে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। এছাড়া এখন চলছে বিভিন্ন ব্যাংকের চাকরিচ্যুত অফিসারদের টাকার বিনিময়ে পুনর্বাসনের খেলা। আর এজন্য কূট-কৌশলে ব্যাংকের পুরানো কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুত করে জায়গা খালি করার অপচেষ্টা চলছে।
এই মাথাভারী প্রশাসন চালাতে এবং অনিয়ন্ত্রিত খরচ, নিয়োগে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির কারনে ব্যাংক আজ ডুবতে বসেছে।
অন্যদিকে ব্যাংক এর অন্যতম সফল উদ্যোগ, মাইক্রো ক্রেডিট এর মাঠকর্মীদের চাকরী নবায়ন না করে তাদেরকে চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে, যা খুবই অমানবিক। মাইক্রো ক্রেডিট কার্যক্রম কে সংকুচিত করে তারা সম্ভবত বড় বড় কর্পোরেট লোন দিয়ে মোটা অংকের অবৈধ আয় করতে চাচ্ছে। নতুবা ব্যাংকের সবচেয়ে বড় সাফল্য মাইক্রো ক্রেডিট এর অফিসার, যাদের বেতন খুবই সামান্য এবং যারা উদয়-অন্ত ব্যাংকের জন্য মাঠে ঘাটে ব্যাংকের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে, তাদের চাকরী নবায়ন না করার আর কি উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
ব্যাংকের শাখা পর্যায়ে মারাত্মক জনবল সংকট থাকলেও চার-পাঁচ বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত জনবলকে গণহারে ছাটাই করা হচ্ছে। ফলে এইসব কর্মীরা পাঁচ বছর চাকরি করার পর বিনা অপরাধে চাকরি হারিয়ে এখন পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এরা একক বা সম্মিলিতভাবে এইচ আর ডিভিশনে কথা বলতে গেলে ব্যাংকের হেড অব এইচ আর ফয়সাল আহমেদ এবং চিফ লিগ্যাল অফিসার এস.কে তারেক নেওয়াজ তাদেরকে জেল খাটানোর হুমকি দিয়ে বিদায় করেছে।
ব্যাংকের আগানগর শাখার সাবেক ম্যানেজার আরিফুর রহমান এর বিরুদ্ধে ডেভেলপার ব্যবসা এবং ভূয়া লোনের অভিযোগে ছয় মাসের সময় দিয়ে পদত্যাগের চিঠি দেয়া হলে বর্তমান চেয়ারম্যান এর বাড়ীর লোক হিসেবে এখন তাকে সিলেটের জোনাল হেড করে পুরষ্কৃত করা হয়েছে।
ব্যাংকের তেজগাঁও উপশাখা, মহাখালী শাখা এবং প্রধান কার্যালয় হিসেবে হাদী ম্যানশন এর ফ্লোর এক বছর ধরে ভাড়া টানা হলেও এখনো এগুলোতে অফিস স্থানান্তর করা হয়নি। ইন্টেরিয়র ডেকরেশনে বর্তমান ম্যানেজমেন্ট আগের তুলনায় দ্বিগুন খরচ করে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নিজস্ব কোম্পানীকে কাজ দিয়ে আমানতকারীর অর্থের অপচয় করে কমিশন বানিজ্য করছে।
বর্তমান এমডি লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে তার রুমে সাউন্ড প্রুফ সিস্টেম বসিয়েছে। যদিও তিনি একটি ব্যাংকের এমডি, কোন সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট নন। আগের বোর্ড বিভিন্ন সাব রেজিস্ট্রি বুথের টাকা রেমিট করার জন্য ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় ভাড়ায় চালিত গাড়ী প্রদান করেছিলো। যে সকল গাড়ী তখন বুথের টাকা রেমিট করা ব্যতীত বাকী সময় সংশ্লিষ্ট ম্যানেজারদের পরিবার পরিজন ব্যবহার করত বলে একাধিক অভিযোগ থাকার পরেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। অথচ বর্তমানে সকল সাব রেজিস্ট্রি বুথ বন্ধ থাকার পরেও ঐ সকল শাখায় আবারো সম্পূর্ন অপ্রয়োজনীয়ভাবে ব্যাংকের টাকা খরচ করে গাড়ী প্রদান করা হচ্ছে। গাজীপুর এর মত ব্যাস্ত এলাকার গাড়ী ফেরৎ নিয়ে এবং টাংগাইল এর মত বড় এলাকায় গাড়ী না দিয়ে কিশোরগঞ্জ, নবীনগর ও সুন্দরগঞ্জ এর মত এলাকাগুলোতে গাড়ী দেয়া হচ্ছে। ব্যাংকের কাজে ব্যবহার না হলেও কিশোরগঞ্জ এর ম্যানেজার রকিবুল হাসান এর ব্যাক্তিগত ও পারিবারিক কাজে এসকল গাড়ি ব্যবহার হয় এবং এ সংক্রান্ত বিষয়ে রকিবুল হাসান এর বিরুদ্ধে হেড অফিসে অডিট ডিভিশনে পর্যাপ্ত অভিযোগ থাকার পরেও অডিট ডিভিশন এর মোহাম্মাদ তালাবুল ইসলাম এর এলাকাপ্রীতির কারনে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যাবস্থা না নিয়ে বরং প্রোমোশন দিয়ে পুরষ্কৃত করা হয়।
বিগত একবছরের দায়িত্বকালে বর্তমান বোর্ড কোন নতুন কাষ্টমার এর প্রোপোজাল পাশ তো করেনি, উল্টো ব্যাংকের পুরানো ও লয়াল কাষ্টমাররা বর্তমান এমডি ও বোর্ডের অসহযোগিতার কারনে তাদের ব্যবসা অন্য ব্যাংকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।
ব্যাংক ঋণের রিশিডিউল, রিস্ট্রাকচার, ইন্টারেস্ট ওয়েভার সহ এককালীন এক্সিট, রাইট অফ ইত্যাদি ব্যাংকের প্রতি বছরের নিয়মিত কার্যক্রম এর মধ্যে পড়লেও বোর্ড থেকে পাশ করা এককালীন এক্সিট এর জন্য মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চার মাস অতিরিক্ত সময় চাওয়া হলেও এই এমডি তা কোনভাবেই পাশ করেননি কারন তাহলে খেলাপী ঋণ কমে যাবে এবং ব্যাংক ক্লিন হয়ে যাবে যা তিনি কোনভাবেই চাননি।
বছরের শেষ প্রান্তিকে (সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর) সাধারনতঃ সকল ব্যাংক NPL Collection নিয়ে ব্যাস্ত থাকে। কিন্তু এই এমডি তাদের গোপন এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য ব্যাংকের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ১০ টাকার একাউন্ট খোলাতে ব্যাস্ত রাখেন যাতে ব্যাংকের NPL এর দিকে কেউ মনোযোগ দিতে না পারে। অবশেষে মাঠকর্মীদের চাপে ডিসেম্বর এর ১ তারিখে উনি NPL নিয়ে ব্যাংকে প্রথম Zoom মিটিং করেন যখন হাতে আর সময় ছিলোনা। ব্যাংকের কোটি কোটি টাকা খরচ করে CASA Campaign এর নামে ১০ টাকার একাউন্ট খোলান, যা ব্যাংকের কোন কাজেই আসবেনা।
বর্তমান এমডি এনআরবিসি ব্যাংকে চাকরির সাত মাসের মধ্যেই সীমান্ত ব্যাংক ও কমিউনিটি ব্যাংকে ভাইভা দেন। কিন্তু ব্যাংকের ঘন ঘন ব্যাংক পরিবর্তনে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আপত্তির কথা জানানোর পরেও বর্তমানে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে এমডি হিসেবে যাওয়ার জন্য ফ্যাসিস্টদের দোসরদের পা ধরছেন।
উনি নিয়মিত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞানগর্ভ কলাম লিখে থাকেন। কিন্তু তার সাথে দশ মিনিট কথা বললে বুঝা যায় কতটা অন্তঃসারশূন্য মেধাচোর মানুষ এই ব্যাক্তি। তার একাধিক লেখা যাচাই করে দেখা গেছে ৮৮% থেকে ৯৪% পর্যন্ত AI দিয়ে কপি করা। এদেরকে মেধাচোর এবং জ্ঞানপাপী ছাড়া আর কি বলা যায়? আর এই সকল ভুয়া Al জেনারেটেড লেখা নিয়মিত লিংকডইন সহ সকল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারের জন্য একজন পিআরও ও ২৪ ঘন্টা নিয়োজিত থাকে। প্রোমোশনাল এক্টিভিটির নামে ব্যাংকের টাকা খরচ করে বিভিন্ন পত্রিকায় AI দিয়ে লেখা এইসব বস্তা পচা কলাম ছাপানো হয়, আবার ঐসব পত্রিকা থেকেই এর বিনিময়ে সম্মানী বাবদ সেই টাকা নিজের নামে হাতিয়ে নেয়।
ফ্যাসিস্টের দোসর সাবেক বোর্ড কর্তৃক গঠনকৃত তৎকালীন এমডি স্কোয়াড বর্তমানেও এই এমডির সবচেয়ে বড় তোষামোদকারী দল যাদের জন্য বিগত সময়েও ব্যাংক কিছু ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো। বিগত এমডি স্কোয়াড সহ বর্তমান এমডি প্রধান কার্যালয়ের ফারহান নওরোজ নুর, মোঃ ফিরোজ আহমেদ, মোঃ আব্দুল গফুর রানা, মোঃ নাসিমুল কবির, মোহাম্মাদ তালাবুল ইসলাম, এস.কে তারেক নেওয়াজ ও ফয়সাল আহমেদ এর মাধ্যমে নয়া সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন।
যে কোন ঘটনা বা ক্রাইম করার পূর্বে নিজস্ব লোকবল পজিশন মত বসানোর পরিস্থিতি তৈরী করে আসল কাজ অর্থ্যাৎ তহবিল তসরুফ এর বন্দোবস্ত সম্পন্ন করতে তোড়জোড় শুরু করেছে। বিশেষ করে FAD, HRD, FMD, Training ইত্যাদি ডিভিশন গুলোর মাধ্যমে টাকা বের করার জন্য নিজেদের পছন্দমত। লোকদের টাকার বিনিময়ে নিয়োগ এবং পদায়ন সম্পন্ন করেছে।
ব্যাংকের ব্যবসার দিকে ন্যূনতম মনোযোগ না দিয়ে অন্য কারো হাতে ব্যাংক হস্তান্তর করার সকল বন্দোবস্ত পাকা করে ফেলেছে। শেয়ারের দাম কমানোর সকল পন্থা অবলম্বন করে আজ শেয়ারের দাম ৬ টাকার নিচে নামিয়ে এনেছে। অপরদিকে ব্যাংক সংস্কারের নামে ব্যাংকের টুটি চেপে হত্যা করে আজ শত শত মানুষের জীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে পর্যবসিত হয়েছে।
সূত্রঃ দেশ সমাচার