আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তার অভিযোগ, একটি মহল প্রশাসনের ভেতরে অবস্থান নিয়ে ভোটের ফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করতে পারে, আর সে চেষ্টা ব্যর্থ হলে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার পথেও যেতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর মোতালেব প্লাজায় আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, নির্বাচন ঘিরে তিনি ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির সম্ভাবনা দেখছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক শক্তি এখনও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মেনে নিতে পারেনি। তাদের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত বিএনপি ও দলটির নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অশালীন ভাষায় আক্রমণ চালানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কিছু দল ক্ষমতার লোভে বিদেশি শক্তির সঙ্গে সমঝোতায় লিপ্ত হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, বিএনপি একটি জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ইতিহাসে স্বীকৃত। কিন্তু সেটিই কিছু গোষ্ঠীর কাছে অসহনীয় হয়ে উঠেছে।
নির্বাচন নিয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, দেশের জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে কিংবা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ফলাফল পাল্টানোর চেষ্টা করা হলে বিএনপি তা কখনোই মেনে নেবে না। জনগণের ভোটের প্রকৃত ফলাফল নিয়েই ঘরে ফিরবে দলটি।
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা প্রসঙ্গে মির্জা আব্বাস বলেন, জামায়াত ও এনসিপির সমর্থনেই ড. মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতার কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন—এ কথা তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেন বিএনপির এই নেতা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেই কারণেই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ওই দুটি দলের প্রভাব দৃশ্যমান।
এ সময় তিনি বলেন, বিরোধী পক্ষের কেউ কেউ চান যেন তিনি নির্বাচনের আগে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন, তবে তিনি সে পথে যাবেন না। প্রয়োজন হলে নির্বাচন শেষে আইনি ও রাজনৈতিকভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সভা শেষে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা আব্বাস ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার আহ্বান জানান এবং ভোটের দিন সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন।