বিল বকেয়ার কারণে স্টার সিরামিকসের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার খবর পাওয়া গেছে। কোম্পানিটি ৫৪ কোটি টাকা পরিশোধ না করে অনেকদিন ধরেই বকেয়া পরিশোধে টালবাহনা করে আসছিল বলে জানিয়েছে জালালাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড সিস্টেমস লিমিটেড (জেজিডিএসএল)।
কয়েক দফায় চিঠি দিলেও বকেয়া পরিশোধে কোন আগ্রহ না দেখে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেজিডিএসএল ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, কোম্পানির বোর্ড এবং পেট্রোবাংলার পক্ষ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য নির্দেশনা ছিল। আমরা তাদের অনেক সময় দিয়েছি বকেয়া পরিশোধের। তারা অনেকবার অঙ্গীকারানামা দিয়েছে কিন্তু অঙ্গীকার রক্ষা করেনি।
আতিকুল ইসলাম আরও বলেন, গত সপ্তাহে আমাদের লোকজন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে শ্রমিকদের দিয়ে বাঁধা প্রদান করেন। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতো সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা থেকে বিরত থাকা হয়। ওই দিন বকেয়া পরিশোধের শর্তে ৪১ জন শ্রমিক অঙ্গীকারনামা দেন। সেই প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করেনি স্টার সিরামিকস লিমিটেড। যে কারণে বাধ্য হয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
জালালাবাদ গ্যাস সুত্র জানিয়েছে, হবিগঞ্জের মাধবপুরে অবস্থিত কোম্পানিটির মাসে গ্যাস বিল হয় ৫ থেকে ৬ কোটি টাকার মতো। সে হিসেবে প্রায় ১০ মাসের সমান বিল বকেয়া পড়েছে। এক শ্রেণির কোম্পানি রয়েছে যারা এই গ্যাস বিলকে মূলধন হিসেবে ব্যবহার করতে চান। নানা রকম প্রভাব বিস্তার করে বকেয়ার টাকা দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করেন। কখনও রাজনৈতিক পরিচয় কখনও পেছনের পথ ধরে বকেয়া ধরে রাখতে চান।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, ব্যাংক থেকে ৫০ কোটি টাকা ঋণ পেতে গেলে তার জন্য অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়, আর মাসে মাসে সুদ গুণতে হয়। আর বকেয়ার ক্ষেত্রে সুদ বৃদ্ধির কোন সুযোগ নেই। যে কারণে কিছু কোম্পানি এই অন্ধকার পথে হাটেন। আবার কিছু কর্মকর্তা রয়েছে যারা তাদের থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে নানা কৌশলে বকেয়া জিয়ে রাখেন।
স্টার সিরামিকস লিমিটেডের হেড অব প্রকিউরমেন্ট সোহেল আহমেদকে ফোন করা হলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তার কাছে দায়িত্বশীল কারো নম্বর চাইলে দিতে অস্বীকৃতি জানান।