শিরোনাম
অগ্রণী ব্যাংকে মহান স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপন মাত্র ৩ কার্যদিবসের মধ্যে জেনিথ ইসলামী লাইফের মৃত্যুদাবীর চেক হস্তান্তর সাবেক সচিব ইউনুসুর রহমান যমুনা অয়েলের নতুন চেয়ারম্যান ওয়ালটন পণ্য কিনে উপহার পেলেন আরও ২৭ ক্রেতা মঙ্গলবার থেকে পুঁজিবাজারে টানা ৭ দিনের ঈদের ছুটি শুরু ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন প্রায় ৪১ লাখ করদাতা: এনবিআর ঈদের ছুটিতে সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে ব্যাংক, লেনদেন চলবে কত ঘণ্টা? থ্যালাসেমিয়া রোগের চিকিৎসায় ১০ লাখ টাকা দিল শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক আর্থিক খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস বিশ্বব্যাংকের একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় ওয়ালটন হাই-টেককে অনাপত্তিপত্র দিয়েছে বিএসইসি

কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে দেড় হাজার কোটি টাকা ধার এবি ব্যাংকের

  • Update Time : Tuesday, November 25, 2025

তারল্য সংকটে পড়া পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের কোম্পানি এবি ব্যাংককে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ধার দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ৯০ দিনের জন্য এই সুবিধার সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১১.৫০ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ নভেম্বর গভর্নর আহসান এইচ মনসুর এ সহায়তা অনুমোদন করেন। একই দিনে প্রতিশ্রুতিপত্র জমা দিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতিঝিল অফিসে পরিচালিত হিসাবের মাধ্যমে অর্থ ছাড় করা হয়।

এবি ব্যাংক এর আগে তিন দফায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ৭৮০ কোটি টাকা ধার নিয়েছিল, যার মধ্যে মাত্র ১০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। নতুন ঋণসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ব্যাংকটির মোট বকেয়া দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৭০ কোটি টাকা।

ব্যাংকটির নথি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র তারল্য সংকটে আমানত উত্তোলনের চাপ বাড়ে। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত গ্রাহক উত্তোলন করেছেন ৮৪২ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্লিয়ারিং অ্যাকাউন্টে জমা রয়েছে মাত্র ৬.৪২ কোটি টাকা। এর ফলে শাখাগুলোতে গ্রাহক লেনদেনে অস্থিরতা তৈরি হয়।

এদিকে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় ২ হাজার ৪ কোটি টাকা এ ব্যাংকে আটকে রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ২০২ কোটি, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৩৫ কোটি, কৃষি ব্যাংকের ৩৭৮ কোটি, বেসরকারি সংস্থা আশার ১ হাজার ৩০৭ কোটি, ওয়েস্ট জোন পাওয়ারের ৬ কোটি, ডিপিডিসির ১৩ কোটি এবং বিভিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ কোম্পানির বকেয়া রয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে।

নথি থেকে জানা যায়, ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ধরে রাখতে গত ৩ নভেম্বর গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করে ৬ হাজার কোটি টাকা সহায়তা চায় এবি ব্যাংকের বোর্ড। পরে তাৎক্ষণিক জরুরি সহায়তা হিসেবে ২,৫০০ কোটি টাকা ধার নেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেন পর্ষদ সদস্যরা।

একসময় গ্রাহকসেবায় সেরা হিসেবে পরিচিত এবি ব্যাংক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অদক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে সংকটে রয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ১৪৩ কোটি টাকা যা বিতরণকৃত মোট ঋণের প্রায় ৮৪ শতাংশ। এর অর্ধেকের বেশি ঋণ কেন্দ্রীভূত মাত্র ২০ গ্রাহকের হাতে।

আর্থিক দুরবস্থার কারণে ২০২৪ সালে এবি ব্যাংক রেকর্ড লোকসান দেয়। নিরীক্ষিত বিবরণ অনুযায়ী, সে বছর শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২১ টাকা ২৮ পয়সা। মোট লোকসান দাঁড়ায় ১ হাজার ৯০৬ কোটি টাকা। আগের বছর ব্যাংকটির মুনাফা ছিল ৯০ কোটি টাকা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 pujibazarpratidin
Site Customized By NewsTech.Com